ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগীর পরিবার

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০২০

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগীর পরিবার। সম্প্রতি অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামের পরিবার কিশোরীর মাকে মারধর করে গুরুতর জখম করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর সুষ্ঠু বিচার পেতে এবং নির্যাতিত পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউনিয়নের পঁচামাগুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা-মা অভিযোগ করেন, ধর্ষক তরিকুল ও তার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মামলা করে টিকতে পারছে না। ধর্ষকের পিতা বাকা মোল্যা, ভাই জুয়েল, বারিকসহ তার লোকজন এর আগে মামলার বাদী কিশোরীর মাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় সে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সপ্তাহ চিকিৎসা গ্রহণ করে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিনিয়িত ধর্ষণ মামলা তুলে নেয়ার জন্য তাদের ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকের পরিবার। এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা নির্যাতিত পরিবারটি ধর্ষকের ফাঁসি ও অন্য আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তরিকুলের বাবা বাকা মোল্যা নির্যাতন ও হুমকি-ধামকির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

জানা যায়, পঁচামাগুরা গ্রামের বাকা মোল্যার ছেলে তরিকুল ইসলাম প্রতিবেশী নবম শ্রেণির ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রেমের প্রস্তাবসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো। গত ৫ এপ্রিল ওই কিশোরীর বাড়ির পাশে বাগানে রান্নার খড়ি (লাকড়ি) আনতে গেলে তরিকুল তাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে তরিকুলসহ পাঁচজনকে আসামি করে বোয়ালমারী থানায় মামলা করেন।

ওই মামলায় তরিকুল বর্তমানে জেলহাজতে থাকলেও বাকি চার আসামি জামিনে থেকে বাদী ও বাদীর পরিবারকে নির্যাতন করছে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় বাদীর স্বামী থানায় আরও একটি মামলা করেন। এ ছাড়া বোয়ালমারী থানায় দুটি জিডি করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদত হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনাটি সঠিক। ধর্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বাদীর ওপর নির্যাতন করতে পারে। মারধরের ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। আশা করি নির্যাতিত পরিবার দ্রুতই সুবিচার পাবে।

বি কে সিকদার সজল/এসজে/জেআইএম