চাঁদপুরে মানবাধিকার সংগঠন নামে আছে কাজে নাই!
প্রতীকী ছবি
চাঁদপুরের অলি-গলিতে মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানার-সাইনবোর্ডের ছড়াছড়ি। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে এদের কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না। অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় নেই, নেই কোনো কার্যক্রম। অনেকেই এসব নাম ব্যবহার করছে রাজনৈতিক পদ পাওয়ার আশায়। আবার কোথাও কোথাও মানবাধিকার সংগঠনের নামে পরিচালনা করা হয় দেন-দরবার বা শালিস।
চাঁদপুরের এসব নামসর্বস্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ঠিক কতটির কার্যক্রম বাস্তবে আছে সুনির্দিষ্ট করে তা বলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কেউ। বিগত বছরগুলোতে গুটিকয়েক সংগঠন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসসহ বিভিন্ন দিবস উদযাপনের লোক দেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু এসব সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ মানবতার স্বার্থে কাজ করার মতো কেউই নেই।
ব্যক্তি স্বার্থে মানবাধিকার সংগঠনের নাম ব্যবহার করলেও প্রয়োজন শেষে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। এছাড়া বেশ কয়েকটি সংস্থার কার্যক্রম এখন প্রায় নেই বললেই চলে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
বর্তমানে চাঁদপুরে মানবাধিকার সংস্থার নামে রয়েছে- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস্ ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশন, জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটি, আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন, হিউম্যান রাইটস এক্টিভিটিস ফাউন্ডেশন, হিউম্যান রাইটস রিভিউ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইউনিট ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস্ অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টাস, হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অপরাধ দমন সংস্থাসহ নামে-বেনামে বেশকিছু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ‘করোনাভাইরাস মহামারিতে এসব মানবাধিকার সংগঠনের কী কার্যক্রম ছিল? হতদরিদ্র, অসহায় এবং পথশিশুদের নিয়ে তাদের কোনো কার্যক্রম আমরা দেখিনি।’
তারা বলেন, ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে দুই চারটি সংগঠন তাদের কার্যক্রম চালালেও দু-একদিন পর আবার সবকিছু আগের মতোই হয়ে যায়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘মানবাধিকারকর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে থানার দালালি, ভূমি অফিসে তদবির, প্রতারণাও ইত্যাদি করে আসছে অনেকে। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মীমাংসার নামে তারা মোটা অংকের অর্থ নেয় অসহায় দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে।’
অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি নামে একটি সংগঠন চাঁদপুর জেলা ও উপজেলা এমনকি আরও প্রান্তিক পর্যায়েও কমিটি গঠন করছে। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে এ সংগঠনেরও কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। সংগঠনটির জেলা পর্যায়ের কর্তা এড. জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে কম্বল বিতরণ করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন বিভিন্ন কর্মসূচীতেও আমরা অংশগ্রহণ করি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল নামে একটি সংগঠনের চাঁদপুর শাখার সাবেক আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মহসীন খান বলেন, ‘মানবতাকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সারাবিশ্বে রয়েছে কয়েক হাজার মানবাধিকার সংগঠন। এসব সংগঠনের কাজ হচ্ছে মানবতার সেবা করা। হতদরিদ্র অত্যাচারিত নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু চাঁদপুরে এ সংগঠনের দৃশ্যত কোনো কার্যক্রম না থাকায় অনেক আগেই সরে এসেছি। বর্তমানে এ সংগঠনটির কোনো কার্যক্রম চলে কিনা আমার জানা নাই।’
সংগঠনটির চাঁদপুর শাখার বর্তমান সভাপতি সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ গাজী বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংগঠনের কার্যক্রম চালাতে অপারগতার কথা আমি অনেক আগেই সেন্ট্রাল কমিটিকে জানিয়েছি। তাদের বলেছি নতুন কমিটি গঠন করার জন্যে। কিন্তু করছে না।’
চাঁদপুরের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদপুরের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রম স্থবির। সেভাবে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। সারাবিশ্বের সংগঠনগুলো দিবসটি উদযাপন করলেও চাঁদপুরে সংগঠনগুলো ছিল নিষ্প্রাণ।
নজরুল ইসলাম আতিক/এসএস/জেআইএম