বরযাত্রীর ট্রলারডুবি: আরও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে নলেরচর থেকে ভোলার মনপুরায় যাওয়ার পথে মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় ডালচর এলাকায় বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় আরও দুই নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ওই দুর্ঘটনায় ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে হাতিয়ার টাংকির চর সংলগ্ন নদী থেকে হাসান নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের (ভোলা) ডুবুরি দল। আর সন্ধ্যা ৭টার দিকে লক্ষ্মীপুরের গজারিয়া থেকে নিহা (১) নামে আরেক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় জেলেরা।
এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় সার্চ এন্ড রেসকিউ দলের নেতৃত্বে থাকা হাতিয়া কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এস এম তাহসিন রহমান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ওই দুর্ঘটনার পর থেকে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন নারী ও শিশুসহ ছয়জন। এখন পর্যন্ত নয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। শিশু নেহার মরদেহ আনতে লক্ষ্মীপুরে যাবে কোস্টগার্ড।
এখনও নিখোঁজরা হলেন- জাকিয়া বেগম (৫৫) ,নার্গিস বেগম (৪), হালিমা (৪), লামিয়া (৩), আমির হোসেন (২) ও আলিফ (১)।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার হাতিয়ার নলের চরে বিয়ে অনুষ্ঠান শেষে নববধূ নিয়ে বরসহ ভোলার মনপুরা যাওয়ার পথে ডালচর এলাকায় তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের থানার হাট এলাকার ইব্রাহীম সওদাগরের মেয়ে নববধূ তাছলিমা (২০), হরণী ইউনিয়নের মোহম্মদপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের মেয়ে আসমা বেগম (১৯), সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের আকবর হোসেনের মেয়ে আফরিনা আক্তার লামিয়া (৯), একই এলাকার আলমগীর হোসেনের মেয়ে লিলি আক্তার ( ৮), নলেরচরের কালাদুর গ্রামের ফয়জ্জুল্লার মেয়ে হোসনে আরা বেগম (৫), চানন্দী ইউনিয়নের পূর্ব আজিম নগর গ্রামের আলা উদ্দিনের স্ত্রী রাহেনা বেগম (৩০), একই এলাকার খোরশেদ আলমের স্ত্রী নুরজাহান (৬৫), হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের আব্দুল কাদেরের ছেলে হাসান (৬) ও শিশু নিহা (১)।
নিহত নববধূর বাবা ইব্রাহীম সওদাগর জানান, হাতিয়ার ডালচরে ট্রলার ডুবির এ ঘটনা ঘটলেও প্রবল স্রোতে পাঁচটি লাশ ভেসে যায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতিতে। জেলেরা নদীতে ভাসমান লাশগুলো ভাসতে দেখে তাদের উদ্ধার করে টাংকির ঘাটে নিয়ে আসেন। পরে তারা রামগতি থানা পুলিশকে খবর দেন। অপরদিকে দুটি লাশ পাওয়া যায় চানন্দি ঘাটে।
তিনি আরও জানান, তার মেয়ে তাছলিমার সঙ্গে হাতিয়ার ঢালচরের বেলাল মেস্তুরীর ছেলে ফরিদ উদ্দিনের বিয়ে হয়। মঙ্গলবার তাছলিমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরের বাড়িতে নেয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আকরাম উল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পরপরই হাতিয়ার নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযানে নামে। তবে সন্ধ্যা নেমে আসায় উদ্ধার অভিযান থেমে যায়। বুধবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারটি উদ্ধার করে হাতিয়ার ডালচরে রাখা হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.ইমরান হোসেন বলেন, নিহতদের পরিবারকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আরও মৃতদেহ পাওয়া গেলে তাদেরকেও অনুরূপ আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
মিজানুর রহমান/এসএস/জেআইএম