মোংলায় নদী-দখল : এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলছেন পরিবেশবাদীরা
মোংলা অঞ্চলে কতিপয় শিল্পমালিক ও ব্যক্তির নদী-খাল দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা-৬ অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে নদ-নদী ও জলাশয় দখল এবং দূষণমুক্ত করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। বরং নদী-খাল-বিল-জলাশয় দখল অব্যাহত থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন পরিবেশবাদীরা।
মোংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র রায় জানান, নাভানা এলপিজি বিদ্যারবাহন-দিগরাজ মৌজার ঘাটের খাল ভরাট করে অবৈধভাবে দখলে রেখেছে। ছোট বিদারবাহন খাল অবৈধ দখলে রয়েছে ফমকম গ্রুপের। এছাড়া ছোট হয়তা খাল এবং বড় হয়তা খাল কতিপয় ব্যক্তির অবৈধ দখলে। অন্যদিকে বাংলাদেশ নদী কমিশন মোংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের শেলা নদীর ১৯ জন এবং পৌরসভার ঠাকুরানী খালের ৩০ জন অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি।

দাকোপ উপজেলার বাণীশান্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুদেব রায় বলেন, ‘সুন্দরবনের সন্নিকটে ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়ার মধ্যে পশুর নদী সংলগ্ন গ্রিন এলপিজি কোম্পানি আমতলা সরকারি খাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু দিয়ে ভরাট করেছে। বিষয়টি প্রশাসন এবং কোম্পানির দৃষ্টিগোচরে আনলে গ্রিন এলপিজির প্রকৌশলী আশীষ রায় গণমাধ্যমের কাছে ভুল স্বীকার করে বালু সরিয়ে ফেলার কথা বললেও লোক দেখানো কার্যক্রম চালিয়েছেন।
শিল্পমালিক এবং কতিপয় ব্যক্তির নদী-খাল-বিল-জলাশয় দখল অব্যাহত রাখার বিষয়ে খুলনা পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খোদা বলেন, ‘সম্প্রতি হাইকোর্ট নদীকে জীবন্তসত্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আইনে আছে, সিএসভুক্ত খাল কেউ দখল করতে পারে না। প্রশাসনের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এসব খাল অবমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মোংলা অঞ্চলের নেতা মো. নাজমুল হক বলেন, ‘এসডিজির ৬ ধারায় ২০২০ সালের মধ্যে নদ-নদী দখলমুক্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও মোংলা অঞ্চলে শিল্পমালিকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে এসডিজির ৬ ধারা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।’

খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে নাভানা এলপিজির ব্যবস্থাপক তুহিন আক্তার বলেন, ‘নাভানা এলপিজি কোনো কিছু দখল করেনি। নাভানা এলপিজি এবং নাভানা রিয়েল এস্টেট এক নয়। নাভানা এলপিজির পেছনে নাভানা রিয়েল এস্টেটের জমি আছে।’
নদী-খালের অবৈধ দখলদারদের কেন উচ্ছেদ করা হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে মোংলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, ‘অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। ডিসি অফিস থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’
মো. এরশাদ হোসেন রনি/ইএ/বিএ/জেআইএম