হাত পেতে নয় কাজ করে বাঁচতে চান হিজড়ারা
মানুষের দ্বারে দ্বারে আর হাত পাততে চান না। সমাজের অন্যান্য নারী-পুরুষ যেভাবে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করে, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী হিসেবে তারা সেটা আশা করেন।
শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজবাড়ী পৌর ইংলিশ মার্কেটের তৃতীয় তলায় পুলিশ সুপারের পৃষ্ঠপোষকতায় হিজরা জনগোষ্ঠীর জন্য উত্তরণ বিউটি পার্লার অ্যান্ড বুটিক হাউজের উদ্বোধন শেষে এক প্রতিক্রিয়া হিজড়ারা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, ‘তারা সমাজে অবহেলিত। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। ডিআইজি তাদের একটি বিউটি পার্লার ও বুটিক হাউজ করে দিয়েছেন। এতে তারা অনেক খুশি এবং এর মাধ্যমেই তারা প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী হতে চান। মানুষের দ্বারে দ্বারে আর যেতে চান না।’
তারা বলেন, তাদের মধ্যে অনেকে পড়াশোনা করছেন। সরকার চাকরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ালে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ সময় তাদের বিউটি পার্লারে সবাইকে আসতে এবং বুটিক শপ থেকে কেনাকাটা করার অনুরোধ জানান।

ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে যে হিজড়া সম্প্রদায় আছে, তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অবহেলিত। সমাজ তাদের গ্রহণ করতে চায় না। রাস্তাঘাট, দোকানপাঠসহ বিভিন্ন স্থানে টাকা-পয়সা চেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাদের। তাদের নিজস্ব কোনো পেশা নেই। উত্তরণ ফাউন্ডেশনের (ডিআইজির নিজের ফাউন্ডেশন) পক্ষ থেকে চেষ্টা করছেন এ শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদের প্রতি আন্তরিক।’
তিনি বলেন, হিজড়ারা আর রাস্তাঘাটে হাত পেতে জীবন ধারণ করবেন না। তারা সম্মান নিয়ে সমাজের পাঁচজনের মতো মর্যাদার সঙ্গে বাঁচবেন। যে কারণে তাদের পার্লার ও বুটিক শপ করে দেয়া হয়েছে।

এর আগে সকালে রাজবাড়ী পুলিশ লাইন্সে ডিআইজি হাবিবুর রহমানকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। তিনি সেখানে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন সুপার শপের উদ্বোধন করেন। পরে দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লীর অসহায় বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য উত্তরণ ফাউন্ডেশনের সেভ হোমের উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, মেয়র মুহম্মদ আলী চৌধুরীসহ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
রুবেলুর রহমান/এসআর/জেআইএম