ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যেমন মেয়র চান মির্জাপুরবাসী

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) | প্রকাশিত: ০৮:৪৮ এএম, ০২ জানুয়ারি ২০২১

নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর পৌর পরিষদ চালানোর পাশাপাশি উন্নয়ন ও সামাজিক শালিস বৈঠক এবং পৌরবাসীর পাশে থাকতে পারবেন—এরকম প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন মির্জাপুর পৌরবাসী। পৌর এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমনই আভাস পাওয়া গেছে।

ভোটাররা বলছেন, পৌর পরিষদ চালানো ও সামাজিক নেতৃত্বের জন্য দক্ষ, সৎ ও সাহসী হতে হয়। দক্ষ, কর্মঠ ও পরিশ্রমী নেতা প্রয়াত মেয়র সাহাদত হোসেন সুমন নির্বাচিত হওয়ার চার বছরেও মির্জাপুর পৌরসভার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সামাজিক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে না পারায় পৌরবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য ভোটাররা মির্জাপুর পৌরসভার আগামী নির্বাচনে ভেবে চিন্তে মেয়র নির্বাচিত করবেন বলে জানিয়েছেন।

৩১ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিনে তিনজন মেয়র, ১১ জন সংরক্ষিত নারী ও ৩১ জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি এ পৌরসভায় ভোট হবে।

এ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে সালমা আক্তার শিমুল, বিএনপি থেকে ফরিদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সদর ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০০০ সালে মির্জাপুর পৌরসভা গঠিত হলেও ২০০২ সালে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন মনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনে মোশারফ হোসেন মনি ও প্রয়াত মেয়র সাহাদত হোসেন সুমনকে পরাজিত করে মির্জাপুর সদর ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুর রহমান শহিদ মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তৃতীয় নির্বাচনে সাবেক মেয়র শহিদ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাহাদত হোসেন সুমনের পক্ষে কাজ করে তাকে নির্বাচিত করেন। গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র সুমন মারা যান।

গত ১০ অক্টোবর এ পৌরসভার উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য পাঁচ প্রার্থী সুমনের স্ত্রী সালমা আক্তার শিমুলকে সমর্থন করে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত করেন।

সাধারণ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর ছয়জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। এমপি একাব্বর হোসেনের চাচাতো ভাই সুমনের স্ত্রী প্রার্থী হওয়া এবং তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মির্জাপুর পৌরসভায় ২১ হাজার ৬৪৯জন ভোটার রয়েছে। নারী ১১ হাজার ৪৫৮ ও পুরুষ ১০ হাজার ১৯১ জন। এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার রয়েছে।

ভোটারদের একটি অংশ বলছেন, উপনির্বাচন এবং সাধারণ নির্বাচন এক কথা নয়। পাঁচ বছর পৌর পরিষদ চালানোর পাশাপাশি উন্নয়ন ও সামাজিক শালিস করতে হবে। সেজন্য আলাদা দক্ষতা থাকতে হয়। তবে সাহাদত হোসেন সুমন মেয়র হওয়ার চার বছরেও মির্জাপুর পৌরসভায় কাঙিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। সামাজিক কার্যক্রমও সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেননি।

তারা বলেন, মির্জাপুর পৌরসভায় আগামী দিনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনার সুযোগটি কাজে লাগাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ সম্পন্ন পৌরসভা গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। এছাড়া পৌর এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ, যানজট সমস্যা নিরসনে বাস-ট্রাকসহ পৃথক যানবাহন স্ট্যান্ড, আলোকিত পৌরসভা গড়তে পর্যাপ্ত সড়ক বাতি স্থাপন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করা, ভার্চুয়ালি শিক্ষাব্যবস্থা চালু, শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের জন্য পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র, সন্ত্রাস ও মাদক নিরসনে কাজ করাসহ জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও বাস্তবায়ন চান তারা। এজন্য ভোটাররা এবার মির্জাপুর পৌরসভা নির্বাচনে চিন্তাভাবনা করে মেয়র নির্বাচিত করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, বর্তমান মেয়র সালমা আক্তার শিমুল এমপি একাব্বর হোসেনের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী। অন্য সব প্রার্থীর জনপ্রিয়তা থাকলেও প্রয়াত মেয়র সুমনের প্রতি সম্মান জানিয়ে সকল প্রার্থীই উপনির্বাচনে শিমুলকে সমর্থন করেছিলেন। তার বয়সও কম। তার রাজনীতি, সমাজ ও প্রশাসন সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। তাই আগামী পৌর নির্বাচনে শিমুলের প্রতি সেই অকুণ্ঠ সমর্থন থাকবে না বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কম বয়সের নারী প্রার্থীকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়ায় সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা শহীদুর রহমান শহিদ ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছেন।

এদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুর রহমান বলেন, ‘ভোটারদের অনুরোধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গি ও দুর্নীতিবিরোধী চলমান প্রক্রিয়াকে গতিশীলতা আনয়নের পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে আধুনিক পৌরসভা গড়ে তুলতে সচেষ্ট হব।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র সালমা আক্তার শিমুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী দলের জন্য কাজ করেছেন। সুমন মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে আমি সব প্রার্থীর সহযোগিতায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। আগামী নির্বাচনেও জয় উপহার দেব।’

এস এম এরশাদ/এসআর/এমএস