ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শিকলে বাঁধা ওবায়দুরের জীবন

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০২১

ডান পায়ে লোহার শিকল। গাছের সঙ্গে বাঁধা সেই শিকল। রাতে ঘরে চৌকির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় তাকে। ১৫ ফুটের শিকলে এক যুগ এভাবেই বাঁধা মানসিক প্রতিবন্ধী ওবায়দুর রহমান হাওলাদারের (১৮) জীবন।

ওবায়দুর শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরজুশিরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল গণি হাওলাদারের ছেলে।

চরজুশিরগাঁও গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পূর্বপাশে মেহগনি গাছের সঙ্গে শিকলবন্দি অবস্থায় প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন ওবায়দুর। যে কেউ কাছে গেলেই সে বলে ওঠে- আমি ওবায়দুর।

obaidur

ওবায়দুরের বৃদ্ধ মা ওরফুন্নেছা বেগম (৬০) জানান, তিন ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে ওবায়দুর সবার ছোট। জন্মের কিছুদিন পর ওবায়দুর হঠাৎ প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে পড়ে। স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক ও কবিরাজ দিয়ে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়নি। ক্রমে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে সে। সুযোগ পেলেই এদিক-সেদিক চলে যায়। এজন্য ৭ বছর বয়স থেকে বাধ্য হয়ে ওবায়দুরকে পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখা হয়।

তিনি আরও জানান, বড় দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। ওবায়দুরকে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। মায়ের হাতে ছাড়া খাবার খায় না সে।

obaidur

বছর দেড়েক আগে একটি ভাতা কার্ড পেয়েছে ওবায়দুর। ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল হক ঘরামী বলেন, প্রতিমাসে ৭৫০ টাকা ভাতা পান ওবায়দুর। সেই টাকা দিয়ে তার খাবারের ব্যবস্থা করে তার মা।

প্রতিবেশী দেলোয়ার ঢালী (৫০) বলেন, ওবায়দুর ও তার মা একসঙ্গে থাকে। তারা অসহায়। যা ভাতা দেয়া হয়, তাতে চলে না। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসাও হয়নি। চিকিৎসা করাতে পারলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হুসাইন বলেন, ওবায়দুরের শিকলবন্দি জীবনের কথা আমি শুনেছি। সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

ছগির হোসেন/এএএইচ/এমএস