ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বই ছাড়াই ফিরল বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি | কুড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ০৭:৪৮ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০২১

নতুন বছরে বই পায়নি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। বই না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সদ্য জাতীয়করণকৃত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুপারিনটেনডেন্ট পদ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের দুই গ্রুপের কোন্দলের কারণে বির্পযস্ত প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, বই দেয়ার কথা বলে মাদরাসার এক পক্ষের সহকারী সুপার শাহানুর আলমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে পুরাতন বই সংগ্রহ করেছেন।

শনিবার (২ জানুয়ারি) সকালে শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় বই নিতে গেলে তাদের বই দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

শনিবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়, নতুন বই নেয়ার জন্য বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করছে। অনেকেই কাঁদছে। অভিভাবকরা রেগে কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাইছেন।

বই না পেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিপন বলেন, অনেক অপেক্ষার পর নতুন বই নিতে এসেছিলাম।

jagonews24

বই না পেয়ে হতাশ সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী একরামুল হক বলেন, করোনার কারণে মাদরাসা বন্ধ থাকায় পড়াশুনা করতে পারিনি। বাড়িতে পড়বো এখন তারও উপায় থাকলো না।

অভিভাবক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রথম দিন আমার মেয়ে বই না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি করছিল। আজ আমি এসেও বই পাইনি।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের এক পক্ষের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট শাহানুর আলমের সঙ্গে মুঠোফেনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে অন্যপক্ষের সুপারিনটেনডেন্ট আমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের নতুন বইয়ের চাহিদা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বই পাওয়া যায়নি।

ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেন জানান, কি কারণে বই বিতরণ করা হয়নি তা জানি না। তবে আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই বই বিতরণ করবেন বলে জেনেছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাই জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে দুই ব্যক্তি সুপারিনটেনডেন্ট পদের দাবি করছেন। এ কারণে প্রকৃত সুপারিনটেনডেন্ট নির্ধারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এতে ব্যর্থ হলে আমি নিজেই শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করবো।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে সুপারিনটেনডেন্ট পদ নিয়ে দুই ব্যক্তির কোন্দল চলছে। এছাড়াও ১-১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বই বিতরণের সময় রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি নিজেই ৭ জানুয়ারি বই বিতরণ করবেন।

মো. মাসুদ রানা/এএইচ/এমকেএইচ