শ্যালকের সনদে দুলাভাইয়ের চাকরি
শরিফুল ইসলাম পেশায় ছিলেন কৃষক। লেখাপড়া মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হয়নি। তবে ইচ্ছো ছিল সরকারি চাকরি করার। তাই সংগ্রহ করেন শ্যালক শফিকুল ইসলামের এস এস সি পাসের সনদ।
সেই সনদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রে বাগিয়ে নেন চাকরি। কিন্তু পাঁচ বছর পর বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় চাকরি খোয়াতে হয়েছে তাকে।
শরিফুল ইসলাম বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের মহিশুরা গ্রামের আফছার আলীর ছেলে। তিনি শফিকুল ইসলাম নামে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে গোপালনগর উত্তরপাড়া জামে মসজিদে প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। প্রথমে প্রতি মাসে তিন হাজার ও পরে পাঁচ হাজার টাকা এবং বছরে দুই বার উৎসব ভাতাসহ প্রায় তিন লাখ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। বিষয়টি ডিসেম্বর মাসে জানতে পারেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরে যাচাই-বাছাই করে শরিফুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
জানা গেছে, ধনুটে ২০০৬ সাল থেকে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানে মোট ২০১টি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে কোরআন শিক্ষা ১২৩টি, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা ৭৭টি এবং বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র একটি।
এ বিষয়ে শরিফুল ইসলাম বলেন, শ্যালক শফিকুল ইসলামের হয়ে প্রক্সি দিয়েছি। বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুলকে চাকরি থেকে অব্যহতি দিয়েছেন। তবে শফিকুলের সনদে আমার চাকরি নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ধুনট উপজেলা শাখার ফিল্ড সুপারভাইজার মীর আরিফ হোসাইন বলেন, তথ্য গোপন করে চাকরি করার অভিযোগে শরিফুলকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। চাকরির নামে সরকারি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া প্রত্যেক কেন্দ্রের শিক্ষকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শরিফুলকে চাকরিচ্যুত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বরাবর সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
এএইচ/এমকেএইচ