সাবেক-বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে ৫ মামলা, ঋণ আ.লীগ প্রার্থীর
দ্বিতীয় ধাপে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বর্তমান মেয়র ও বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন। নৌকা প্রতীকে বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নুর ইসলাম, ধানের শীষে পৌর যুবদলের সভাপতি মো. মোকারম হোসেন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শাহ আলম ও জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফও নির্বাচন করছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমান মেয়র ও বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেনের নামে একটি মামলা ও সাবেক মেয়র জামায়াত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফের বিরুদ্ধে চার মামলা বিচারাধীন।
ব্যাংক ঋণ রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. নুর ইসলামের নামে। এনসিসি ব্যাংক দিনাজপুর জেলা শাখা থেকে সিসি (হাইপোঃ) ৪০ লাখ এবং এসওডি (জেনারেল) ৩০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে তার। এছাড়া বিদ্রোহী মো. মোশাররফ হোসেনের নামে কাহারোল উপজেলার দশমাইল জনতা ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে।
হলফনামায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মো. মোশাররফ হোসেন পেশা হিসেবে কৃষি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ব্যবসা থেকে আয় দেখিয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মেয়র হওয়ার পর কত টাকা সম্মানি পেয়েছেন তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী
দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. নুর ইসলাম। পেশায় হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী। বার্ষিক আয় কৃষি খাত থেকে ৮০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে চার লাখ ৪০ হাজার এবং বাড়ি দোকান ভাড়া থেকে এক লাখ আট হাজার টাকা। নগদ তিন লাখ ও ব্যাংকে নিজ নামে দুই লাখ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর চাকরি থেকে এক লাখ ৮০ হাজার, নগদ দুই লাখ ও ব্যাংকে দেড় লাখ টাকা জমা এবং পাঁচভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী
দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র পদে লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী মো. মোকারম হোসেন। পেশা কৃষি ও ব্যবসায়। বার্ষিক আয় কৃষি খাত থেকে ৮০ হাজার এবং ব্যবসা থেকে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে ৫০ হাজার টাকা আয়েরন কথা জানিয়েছেন। নগদ তিন লাখ ও ব্যাংকে নিজ নামে ২৪ হাজার টাকা জমা রয়েছে। স্ত্রীর নামে বিয়ের উপহার স্বরূপ ২০ ভরি স্বর্ণ পেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী
গতবারের মতো এবারও বিদ্রোহী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন। তার নামে ১টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। পেশা কৃষি। কৃষি থেকে এক লাখ, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান ও অন্যান্য ভাড়াবাবদ ২০ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে পাঁচ লাখ টাকা আয় করেন। তার হাতে রয়েছে চার লাখ, ব্যাংকে জমা রয়েছে দুই লাখ টাকা। তবে তার নামে জনতা ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি এবং সাত ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে
প্রথমবারের মেয়র পদে অংশ নিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্তী মো. শাহ আলম। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও হলফনামায় ব্যবসার ধরনের কথা উল্লেখ নেই। বার্ষিক আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে বিভিন্ন সময় উপহার হিসাবে পাওয়া তিন ভরি স্বণালংকার।
স্বতন্ত্র প্রার্থী
তৃতীয়বারের মতো মেয়র পদে লড়ছেন সাবেক মেয়র জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফ। তিনি সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করেছেন। পেশা কৃষি ও ব্যবসা। তবে ব্যবসার ধরন উল্লেখ নেই। বার্ষিক আয় কৃষি থেকে এক লাখ ২০ হাজার ও ব্যবসা থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার রয়েছে। তবে কোনো দায়-দেনা নেই। প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলাসহ চারটি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।
এমদাদুল হক মিলন/এএইচ/জিকেএস