ভারতীয় দূষিত পানি আসা বন্ধে দুই যুবকের ২৫ কিলোমিটার পদযাত্রা
বছরের পর বছর ধরে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার কালন্দি খাল দিয়ে নেমে আসছে দূষিত কালো পানি। ময়লা-আবর্জনা ও রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত কালো পানি আসার কারণে ক্রমশ হুমকির মুখে আখাউড়ার বিভিন্ন এলাকার খাল-বিল, নদীসহ উপজেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত এ পানির গন্ধে যুগ যুগ ধরে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন আখাউড়া উপজেলার ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা অন্তত ১০-১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। বর্ষাকালে বৃষ্টির মৌসুমে দুর্গন্ধযুক্ত এ কালো পানি ছড়িয়ে পড়ে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে। এতে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগ বেড়ে যায় ওইসব মানুষের। এই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বছরের পর বছর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এতেও কোনো চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি।
এবার ভারত থেকে নেমে আসা দূষিত পানির বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত পদযাত্রা করেছেন দুই যুবক।

শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল নয়টায় জেলা শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে পায়ে হেঁটে তারা আখাউড়া স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তারা পদযাত্রা শুরু করে টিএ রোড, কাউতলী, রাধিকা, সুলতানপুর, চিনাইর, বাইপাস হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরে বিকেল তিনটার সময় গিয়ে পৌঁছান। এই ২৫ কিলোমিটার পথ তাদের পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে।
পদযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাইকার্স নামে একটি সংগঠনের আহ্বায়ক, বাইসাইকেলে ৬৪ জেলা ভ্রমণকারী মাওলানা এম আবু হানিফ নোমান ও তার সহযাত্রী রাকিব হাসান।

আবু হানিফ নোমান বলেন, গত কয়েক দশক ধরে এই দূষিত পানির প্রভাবে সীমান্ত ঘেঁষা ১৫ গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। এর কারণে এলাকার অনেক মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই বিষাক্ত পানি নদীর পানির সঙ্গে মিশে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের এই পদযাত্রার মাধ্যমে ভারত থেকে বিষাক্ত পানি বাংলাদেশ প্রবেশ বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানাই।
ভারতীয় দূষিত পানি বন্ধের বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূরে-এ আলম বলেন, দূষিত পানি আসার বিষয়টি দুই দেশের আন্তর্জাতিক বিষয়। এই বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবগত আছেন। আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে জানানো হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি জেলার সমন্বয় সভায়ও জানানো হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ে এই পানির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিলে আমরা জানতে পারবো।
এমআরআর/জেআইএম