মায়ের কোলে ফিরল ডাস্টবিনে পড়ে থাকা নবজাতক, পিতৃপরিচয়ের অপেক্ষা
সাতক্ষীরার দেবহাটার বাসিন্দা নুর নাহার হীরা (২০)। যাতায়াতের পথে তার সঙ্গে পরিচয় হয় সদর উপজেলার বাসিন্দা আনারুল ইসলামের (৪৮)। ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালান তিনি। কৌশলে হীরার মোবাইল নম্বর যোগাড় করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আনারুল।
একপর্যায়ে হীরাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। আনারুলের মন ভোলানো কথা রাজিও হয়ে যান হীরা। জড়িয়ে পড়েন শারীরিক সম্পর্কে। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন হীরা। তবে বিয়েটা আর হয়নি তাদের। সম্মান বাঁচাতে বিয়ের জন্য অনুরোধ করলেও আর কথা রাখেননি আনারুল।
তবে গর্ভের সন্তান নষ্ট করেননি হীরা। আশায় থেকেছেন তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে নেবেন আনারুল। তবে হীরার গর্ভে সন্তান বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে আনারুলও। গর্ভের সন্তানের পিতৃ পরিচয় মানুষের কাছে দিতে না পেরে বোনের বাড়িতে লুকিয়ে বসবাস শুরু করেন হীরা।
এরই মধ্যে একদিন প্রসব যন্ত্রণা ওঠে হীরার। বোনের সহায়তায় লুকিয়ে ভর্তি হন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে জন্ম নেয় ফুটফুটে পুত্র সন্তান। সন্তান প্রসবের পর হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে হীরা ফোন করেন আনারুলকে। আকুতি করেন- একটি বার যেন তার সন্তানকে দেখতে আসে আনারুল।
তবে হীরার আকুতিতে মন গলেনি আনারুলের। মোবাইলে তিনি জানিয়ে দেন— ‘আমি আসব না। তোর পথ তুই দেখে নে..।’ এরপরই সন্তানকে ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হীরা। সন্তান প্রসবের মাত্র এক ঘণ্টা পরই হাসপাতালের ডাস্টবিনে গর্ভের সন্তানকে ছুঁড়ে ফেলে পালিয়ে যান তিনি।
এরপর ১৭ দিন কষ্ট বুকে চেপে রেখে লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকেন হীরা। তবে গর্ভের সন্তানের টানে লোকলজ্জা ভেঙে ছুটে আসেন তিনি। আদালতে তথ্য-প্রমাণসহ হাজিয়ে দাবি করেন সন্তানের।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা আদালতের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের কাছে লিখিতভাবে এসব তথ্য জানান নুর নাহার হীরা। তিনি জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাখরা কোমরপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে আনারুলই সন্তানের জন্মদাতা।
হীরা বলেন, ‘পথ না পেয়ে আমি সন্তানকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। নিজে বাঁচি, পরিবারের সম্মান বাঁচাতে এ পথ বেছে নিয়েছিলাম। তবে আর পারছি না। কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছিল। এজন্য সন্তানকে ফেরত নিতে এসেছি। আমি চাই- আনারুল আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে তুলে নেবে। তাহলে আমার সন্তান পিতৃ পরিচয় পাবে।’
হীরার বক্তব্য শুনে আদালত নবজাতককে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়। সাতক্ষীরা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এক আদেশে বলেন, ‘যেহেতু একজন মাতা তার গর্ভজাত সন্তানের স্বাভাবিক ও আইনগত অভিভাবক। বিধায় তার কাছেই সন্তানটিকে দেয়া কল্যাণকর ও সর্বোত্তম হবে। সে অনুযায়ী হীরার কোলেই নবজাতককে ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হলো।
এর আগে ডাস্টবিনে পাওয়া নবজাতককে শিশু কল্যাণ বোর্ড দত্তক নিতে আগ্রহী কিছু ব্যক্তির নাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আদালতে পাঠান। তবে শিশুর মা ফিরিয়ে নিতে চাওয়ায় কাউকে আর দত্তক দেয়া হয়নি।
এদিকে শিশুর মা নুর নাহার হীরা স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে আদালতে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আদালতে মামলা করব। আমি চাই- আনারুল আমার সন্তানের পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।’
তবে নুর নাহার হীরার কাছ থেকে পাওয়া আনারুলের দুটি নম্বরে কয়েক দফা কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এএএইচ/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য ও প্রসাধনী বিক্রি, ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
- ২ নির্ধারিত সময়ের আগে ভোটের প্রচারণা, বিএনপির প্রার্থীকে শোকজ
- ৩ রাজনৈতিক ও নির্বাচনি পরিবেশ কলুষিত হয়ে পড়েছে: বদিউল আলম মজুমদার
- ৪ খাগড়াছড়ির ২০৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৬৩
- ৫ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করবে