EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

খেতাব বাতিলের উস্কানিতে আ.লীগের বিদায় ঘণ্টা বাজছে : হাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | বরিশাল | প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘সরকার জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করতে চায়। তারা উস্কানি দিয়ে বিএনপিকে যাচাই করছে। কিন্তু খেতাব বাতিলের উস্কানিতেই আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজছে। এই সরকার শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরের জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার বিএনপিকে মিছিল-সমাবেশও করতে দেয় না। বরিশালের আজকের সমাবেশেও ভোলার মানুষ আসতে পারেনি। তারা পুলিশি বাধায় এখনও কীর্তনখোলা নদীতে নৌকায় ভাসছে।’

বিএনপি নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সামরিক সরকার সেদেশের জনগণকে দমাতে ট্যাংক নামিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের দেড় লাখ মানুষ ট্যাংক ও কামান উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছে। সেদেশের পুলিশ পোশাক পাল্টে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়েছে। আমরা ক’জন রাজপথে নামতে পেরেছি? শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে আমাদেরও এই বরিশাল থেকেই রাজপথে নামতে হবে।’

সমাবেশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ও দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেন সরকারের ধারাবাহিকতায় পাশ্ববর্তী একটি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। যেন-তেনো নির্বাচন করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংসদে পঞ্চাদশ সংশোধনী করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বাতিল করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা আবার ফিরিয়ে আনার জন্য বরিশাল থেকে নতুন করে আন্দোলনের সূচনা করা হলো।’

Barishal-BNP-2.jpg

ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘অবৈধ ভোট ব্যবস্থার কারণে সরকার জনগণ থেকে যত দূরে সরে যাচ্ছে, দেশে দুর্নীতি সন্ত্রাস তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার যতই নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন করুক, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন বাতিলের দাবিতে আমরা অনড় থাকব।’

চট্রগ্রামের মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সরকার ভোট ডাকাতির নির্বাচন করে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার হচ্ছে মাফিয়া সরকার। তাদের অধীনে আমরা আর কোনো নির্বাচন দেখতে চাই না।’ তিনি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেন।

রাজশাহীর মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বিদেশি শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি সরকার। বিচার বিভাগেরও কোনো স্বাধীনতা নেই। দেশের জনগণ আজ জানতে চায়- বিচার বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আলাদা দুটি প্রতিষ্ঠান কি-না?’

খুলনার মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করেছে, সেটা হচ্ছে ভোট ডাকাতির। খুলনার নির্বাচন তার একটি মডেল। আমি খুলনা-২ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হলে ২১ দিনে ১৪০০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এখনও তারা একই কায়দায় নির্বাচন করছে।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘পুলিশি ভয় দেখিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোট করেছে সরকার। ভোটের আগের দিন রাতেই ফলাফল নির্ধারণ হয়ে যাচ্ছে। আজ সমাবেশের অনুমতি দিয়েও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বিএনপির নেতাদের আসতে দেয়া হয়নি। একদিকে তারা মিটিং করতে অনুমতি দিচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন সংগ্রামের বিকল্প নেই।’

এদিকে সমাবেশস্থলে আসা বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পথে পথে বাধা অতিক্রম করে তাদেরকে সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে। সমাবেশের তারিখ ঘোষণার পর থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি ও গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বাস ও ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে সমাবেশস্থল আশেপাশের এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া সমাবেশস্থলের সামনে পুলিশের সাঁজোয়া যান, জলকামান এবং রেকার চোখে পড়েছে।

সাইফ আমীন/এএএইচ/এমএস