দেয়ালে আঁকা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঘনেশ্যামপুর এলাকায় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যাত্রাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও স্কুলে নির্মাণ হয়নি শহীদ মিনার। ফলে বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে শহীদ মিনার অঙ্কন করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
অতীতে অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এ বিদ্যালয়ে ২০০৫ সালে কেয়ার ও ২০১৯ সালে ব্র্যাক নামের দুটি এনজিও সংস্কার কাজ করে। প্রথমে একাডেমিক ভবনসহ বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা থাকায় শিক্ষার্থী কম ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একাডেমিক ভবন বৃদ্ধিসহ সংস্কার ও শিক্ষার মান উন্নয়নে ক্রমাগত বেড়েছে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা। তবে বাকিই রয়েছে শুধু শহীদ মিনার নির্মাণ।
স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমা খাতুন জাগো নিউজকে জানায়, খুব ইচ্ছে করে অন্যদের মতো আমরাও নিজেদের বিদ্যালয়ে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু স্কুলে শহীদ মিনার নেই। তাই স্কুল ভবনের দেয়ালে শহীদ মিনার অঙ্কন করে দেয়ালের সঙ্গে টেবিল রেখে সেখানে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই।
স্কুলের সহকারী শিক্ষিক মিজানুর রহমান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্কুলে কোনো শহীদ মিনার নেই। তাই নিরুপায় হয়ে স্কুল ভবনের দেয়ালে শহীদ মিনার অঙ্কন করে সেখানে টেবিল রেখে তার উপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই।

স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা (কম্পিউটার) নূর সালমা খাতুন জেলি জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর অনেকটা পিছিয়ে পড়া স্কুল ছিল এটি। যা বর্তমানে অগ্রসর হয়েছে। যদি একটি শহীদ মিনার থাকতো তাহলে শিক্ষার্থী আরও গুরুত্ব সহকারে দিবসটি পালন করতো।
যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ইউনিয়নের প্রায় সব স্কুলে শহীদ মিনার থাকলেও যাত্রাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নেই।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় মোট স্কুলের সংখ্যা ৩৭৮টি। মাদরাসা ২২২টি। কলেজের সংখ্যা ৩১টি। এরমধ্যে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নেই। সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই কলাগাছ কিংবা কাঠ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরির পর সেখানে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। তবে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরির নির্দেশনা রয়েছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরির সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। যেহেতু আর দুইদিন পরেই একুশে ফেব্রুয়ারি, তাই স্বল্প সময়ে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ফেব্রুয়ারির আগেই নির্মাণের চেষ্টা করবো।
এএইচ/এমএস