নারায়ণগঞ্জে অনেক স্কুলে নেই শহীদ মিনার, চেয়ারম্যান বললেন, করে দেব
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীর ৫৪ নম্বর রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় মাতৃভাষা দিবস পালনে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হলেও শহীদ মিনারের অভাবে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মাতৃভাষা দিবস পালন করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাধানগর গ্রামটি নারায়ণগঞ্জের চরাঞ্চল ও অবহেলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের মানুষ লেখাপড়ার প্রতি তেমন গুরুত্ব দেয় না। অর্থের অভাবে অল্প বয়সের ছেলেরা কর্মস্থলের দিকে ঝুঁকছে। তারপরও স্কুলের লেখাপড়ার মান অনেকটাই ভালো ছিল। তবে স্কুলের উন্নয়ন না হওয়ায় লেখাপড়ার মান দিনকে দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। দুটি ছোট ভবনে পাঠদান করা হয়।
রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও একই ইউনিয়নের গঙ্গানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরবয়রাগাদী স্কুলে শহীদ মিনার নেই। এসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষা দিবস পালন থেকে বঞ্চিত।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি স্কুল নিয়ে তেমন একটা চিন্তা ভাবনা না করার দরুন আজও শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়নি। শহিদ মিনার স্থাপন করার জন্য মনমানসিকতা প্রয়োজন হয় সেটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে সেটা দেখা যায়নি।

রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, ‘শহীদ মিনার স্থাপনের বিষয়ে আমরা বেশ কয়েকবার ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় এবং নিজস্ব তহবিল না থাকায় শহীদ মিনার করতে পারিনি।’
এ বিষয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জলিল গাজী বলেন, ‘৫৪ নম্বর রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৩৬ সালে স্থাপিত হয়েছে। বক্তাবলী ইউনিয়নের মধ্যে আমাদের স্কুলের লেখাপড়ার মান অনেক ভালো। এই স্কুলে লেখাপড়া করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ব্যাংকারসহ অনেকে উচ্চ স্থানে গিয়েছেন। আমি গত তিন বছর ধরে স্কুলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব করছি। চেষ্টা করেছি স্কুলের শিক্ষার মান বৃদ্ধিসহ স্কুলের উন্নয়ন করার। শহীদ মিনার করার জন্যও চেষ্টা করেছি। স্কুলে ফান্ড না থাকায় তা করা সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের চেয়ারম্যান শওকত আলী সাহেবের মাধ্যমে খুব শিগগিরই স্কুলে শহীদ মিনার স্থাপন করার ব্যবস্থা করব।’
বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, ‘বক্তাবলী ইউনিয়নের কোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না। তাদের মনগড়াভাবে স্কুল পরিচালনা করেন। তারপরও আমি কোনো হস্তক্ষেপ করি না। কেউ আসলে যতটুকু সম্ভব উপকার করি। সাংবাদিকের মাধ্যমে বলতে চাই, বক্তাবলী ইউনিয়নে যতগুলো স্কুলে শহীদ মিনার নেই আগামীতে আমি করে দেব।’
শাহাদাত হোসেন/এসআর/এএসএম