EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দুই কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ছয় যুবকের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ০১ মার্চ ২০২১

শরীয়তপুরে পৃথক ঘটনায় দুই কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ছয় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের প্রত্যেককে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১ মার্চ) বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ছালাম খান এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নড়িয়া উপজেলার আনাখন্ড গ্রামের মৃত খালেক ছৈয়ালের ছেলে টিটু ছৈয়াল (৩১), পাঁচক গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ ছৈয়ালের ছেলে মো. রাজ্জাক ফকির (৩৩), রশিদ সরদারের ছেলে আবু সরদার (৩৮)। সদর উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত লোকমান ফকিরের ছেলে ইসলাম ফকির (২৪), মৃত ছামাদ মন্ডলের ছেলে রাকিব মন্ডল (২৪) ও শাহআলম তালুকদারের ছেলে সবুজ তালুকদার (২২)।

রায় ঘোষণার সময় আসামি টিটু, রাজ্জাক ও আবু সরদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আর আসামী ইসলাম, রাকিব ও সবুজ পলাতক রয়েছেন।

শরীয়তপুরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মির্জা হজরত আলী জানান, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।

পৃথক দুটি মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান থেকে ১৩ বছরের বয়সী ওই কিশোরী সহপাঠী মইন ও রনিকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আনাখন্ড বেইলি ব্রিজের পাকা সড়কে পৌঁছলে আসামি টিটু, রাজ্জাক ও আবু সরদারা মিলে মইন ও রনিকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে ওই কিশোরীকে অপহরণ করেন। ওইদিন রাতে টিটুর বাড়িতে ওই কিশোরীকে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। চিৎকার করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই কিশোরী বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় মামলা করে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ৩০ জুন নড়িয়া উপজেলার ১৪ বছরের এক কিশোরী বিকেলে তার এক আত্মীয়র বাড়ি যাওয়ার জন্য শরীয়তপুর জেলা শহরের বাস টার্মিনালে আসে। তখন সেখানে দেখা হয় পূর্ব পরিচিত পরিবহন শ্রমিক ইসলামের সঙ্গে। ইসলাম ওই কিশোরীকে তার আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তার বন্ধু রাকিব মন্ডল ও সবুজের সঙ্গে অটোরিকশায় তুলে দেয়।

রাকিব ও সবুজ মেয়েটিকে নিয়ে মনোহর বাজারে যান। পরে রাকিবের বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে মেয়েটির মুখ বেঁধে রাকিব ও সবুজ প্রথম দফায় ধর্ষণ করেন। এরপর সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে যায় ইসলাম। রাতে ইসলামও মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। পরে কিশোরীকে পুলিশ উদ্ধার করে। রাতে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় মামলা করেন।

নড়িয়া থানা ও পালং মডেল থানা পুলিশ মামলা দুটি তদন্ত করে ২০২০ সালে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে মামলা দুটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য গেলে আদালত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

মো. ছগির হোসেন/এসজে/এমকেএইচ