চাঁদা না পেয়ে মাদরাসার জায়গা দখল করলেন ইউপি সদস্য
উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বগুড়ার শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদরাসার জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একাধিক সরকারি দফতরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড শেরপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, উপজেলার খন্দকারটোলা মৌজায় মাদরাসার এক একর পয়ষট্টি শতক জমি রয়েছে। একটু নিচু হওয়ায় এসব জমিতে পানি জমে থাকায় দীর্ঘদিন থেকে জমিগুলো অনাবাদি হিসেবে পড়ে ছিল। তাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে মাদরাসার গভর্নিং বডি অধিবেশনে এই জমিগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়।
তবে জমি বিক্রির টাকায় সমপরিমাণ জমি ক্রয় ও অবশিষ্ট টাকায় অবকাঠামো নির্মাণের শর্ত জুড়ে দিয়ে জমি বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয়। সে মোতাবেক যথাযথ নিয়ম মেনে জমি বিক্রির কার্যক্রম শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে দশ থেকে বারো শতক জমি বাদে বাকি সব জমিই বিক্রি হয়ে গেছে।
এরইমধ্যে খন্দকারটোলা গ্রামের বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান লিটন মসজিদ নির্মাণের নামে পাঁচ শতক জায়গা ক্রয়ের সব টাকা দাবি করেন বসেন। চাঁদা হিসেবে উক্ত টাকা না দিলে মাদরাসা জায়গা বেদখল করার হুমকি দেন।
অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে আরও বলেন, ইউপি সদস্যের দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি গত কয়েকদিন আগে মাদরাসার জায়গায় রাতের আঁধারে জোরপূর্বক টিনের ঘরও তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান লিটন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খন্দকারটোলা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রতারণা করেছেন। মাদরাসায় জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন সেটি অস্বীকার করছেন। তাই গ্রামের লোকজন সেখানে টিন দিয়ে নামাজঘর তুলেছেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী শেখ এ প্রসঙ্গে বলেন, মাদরাসার জায়গায় জোরপূর্বক ঘর তোলার সুযোগ নেই। তাই ঘটনাটি জানার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শেরপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএমএম/জিকেএস