ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মৃত্যুর আগে হামলার বর্ণনা দিলেন ছাত্রলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২১

ছুরিকাঘাতে নিহত বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তাকবীর মৃত্যুর আগে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ভিডিও করে রেখেছেন। ভিডিওতে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তাকবীরের ধারণ করা ভিডিওটি জাগো নিউজের হাতে এসেছে।

হাসপাতালে বেডে সারা শরীরে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে হামলার ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেয় তাকবির। জানান, অতর্কিত হামলায় প্রথমে এস এস পাইপ, রড ও চাপাতি দিয়ে তার পায়ে আঘাত করা হয়। এরপর বাঁ হাতের কবজিতে আঘাত করা হয়। মাথার পেছনে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ক্ষত করা হয়। পাঁজরের নীচে দুইপাশের দুইটি স্টেপ (ছুরিকাঘাত) করা হয়। যেটি ৮ ইঞ্চি পরিমাণ গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এ স্টেপটি আব্দুর রউফ নিজেই করেছেন বলে ভিডিও উল্লেখ করেছে তাকবীর। এছাড়াও শরীরের একাধিক স্থানে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয় তাকে।

বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তাকবীর সব সময়ই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতো। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বগুড়া শহরের সাতমাথায় প্রকাশ্যে মারপিটের পর ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় তাকে। হত্যাকারীরা তারই সহযোদ্ধা ছাত্রলীগেরই নেতাকর্মী।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাতে হামলার পর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঘটনার পাঁচদিন মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালেই মারা যান তিনি।

তাকবীরের উপর হামলা ঘটনার দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হলেন, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ (২৭)। রাজনৈতিক ভাবে তারা দুইজন সহযোদ্ধা হলেও দুইজনই ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। আর দলীয় এবং ব্যক্তিগত ইমেজে সর্বসাধারনের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় শুরু থেকেই রউফের প্রতিহিংসা টার্গেটে ছিল তাকবীর। যার কারণে তুচ্ছ একটি ঘটনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় শহরের সাতমাথা জনাকীর্ণ এলাকায় দলবল নিয়ে রউফ বাহিনী তাকবীর এবং তার সহযোগীদের উপর হামলা চালায়। মারপিটের এক পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী আব্দুর রউফ নিজ হাতে সহযোদ্ধা তাকবীরকে ছুরিকাঘাত করে।

নিহত তাকবীরের মা আফরোজা ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য তার সহযোদ্ধারাই হামলা করেছে। তিনি দাবি করে আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে খুন করেছে।

নিহত তাকবীর ইসলাম খান বগুড়া শহরের মালতীনগর স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির জানান, গত ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শহরের সাতমাথায় জিলা স্কুল সংলগ্ন স্থানে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার একদিন পর ১৩ মার্চ শনিবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবীর ইসলাম খানের মা আফরোজা ইসলাম বাদী হয়ে আব্দুর রউফসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

অপরদিকে একই ঘটনায় আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ হাসান বাদী হয়ে তাকবীর ইসলাম খানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২৫ অজ্ঞাতের নামে মামলা করেন।

ওসি হুমায়ন কবির বলেন, তাকবীর হত্যায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে।

এএইচ/জিকেএস