মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর হামলা, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৫
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে নারীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রৌয়াইল গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাতমাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পাঁচজনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা আহত রোগীদের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রৌয়াইল গ্রামের (মোকামপাড়া) মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাব আলীর ছোটছেলে ফজলু মিয়ার (২৬) সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা চুনু মিয়ার ছেলে টমটম চালক মাহি মিয়ার কথা-কাটাকাটা হয়। একপর্যায়ে মোকামপাড়া নিয়ে মাহি আপত্তিকর কথা বললে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর রাতে মাহির আত্মীয়-স্বজনরা সংঘবদ্ধ হয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের হামলায় আহত হন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ফজলু মিয়ার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রাহিমা বেগম (২৫), আবু শাহিনের স্ত্রী সামছুল নাহার (২৮), শাবলু সিয়ার স্ত্রী রাশিয়া বেগম (২৮), মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সাবুল মিয়া (৩৫) ও ফজলু মিয়া (২৬)। তাদেরকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আবু শাহিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের পূর্ব বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে টমটম চালক মাহির আত্মীয়-স্বজনরা সংঘবদ্ধ হয়ে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে আমাদের নারীদেরকেও মারধর করেছে। এটি খুবই কষ্টের ও যন্ত্রণার। তারা যদি আমাদেরকে মেরে ফেলত, তাতে ভালো ছিল। আমরা এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মাহির পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) নাজমুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠিয়েছি।’
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মোছলেহ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) এ বিষয়ে আমরা লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’
লিপসন আহমেদ/এসআর/জেআইএম