ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রেম করে বিয়ে, ৫ বছরের মাথায় স্ত্রীর পায়ের রগ কাটলেন স্বামী

জেলা প্রতিনিধি | লালমনিরহাট | প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২১

লালনিরহাটের হাতীবান্ধায় যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় ছুরি দিয়ে দিলরুবা আক্তার টুম্পা (২৫) নামের এক গৃহবধূর পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, দেবর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধূর শিশুসন্তানকেও নির্যাতন করা হয়েছে। খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে ওই গৃহবধূ ও তার সন্তান হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

শনিবার (২৭ মার্চ) রাতে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম বেজ গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন-হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম বেজ গ্রামের মোখলেছার রহমানের ছেলে অছিউর রহমান প্রাণ (২৭), প্রাণের ভাই মুরাদ হোসেন মন ও তার মা মালতি লতা। প্রাণ এস আর ট্রাভেলসের সুপারভাইজার।

আহত দিলরুবা আক্তার টুম্পা উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের মৃত মোফাজ উদ্দিনের মেয়ে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর আগে ভালোবেসে আদালতে বিয়ে করেন অছিউর রহমান ও টুম্পা। বিয়ের দুই বছর পর পুত্রসন্তান জন্ম দেন টুম্পা। প্রথম দিকে প্রাণের মা এই বিয়ে মেনে না নিলেও সন্তান হওয়ার পর উভয় পরিবার একত্রিত হয়ে তাদের মেনে নেয়। এভাবে কিছুদিন তাদের সংসার ভালোই চলছিল। তবে বিয়েতে কিছু না পাওয়ায় গৃহবধূ টুম্পাকে বাবার বাড়িতে থেকে টাকা আনতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন শাশুড়ি মালতি। বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে না পারায় টুম্পার ওপর নির্যাতন শুরু করেন স্বামী-শাশুড়ি। এনিয়ে কয়েকবার সালিশও হয়েছে। তবে নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

গত শনিবার সন্ধ্যায় দুই লাখ টাকার জন্য টুম্পাকে মারধর করেন স্বামী অছিউর রহমান। তার সঙ্গে যোগ দেন দেবর ও শাশুড়ি। নির্যাতনের একপর্যায়ে স্বামী প্রাণ ধারালো ছুড়ি দিয়ে টুম্পার পায়ের রগ কেটে দেন। পরে টুম্পার পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতায় টুম্পাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

jagonews24

রোববার (২৮ মার্চ) দুপুরে সরজমিনে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ টুম্পা। পাশে শুয়ে ছটফট করছে ছোট্ট শিশুসন্তান ইবনে মেহমেদ। দিলরুবার ব্যান্ডেজ করা পায়ের চারদিকে রক্ত শুকিয়ে জমাটবদ্ধ হয়ে আছে।

টুম্পা জাগো নিউজকে বলেন, ‘টাকার জন্য আমার স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি প্রায়ই মারধর করেন। শনিবার রাতে আমার স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া আর মারধর করেন। একপর্যায়ে শাশুড়ি আর দেবরের সহযোগিতায় স্বামী প্রাণ ধারালো ছুরি দিয়ে আমার পায়ের রগ কেটে দেন।’

কথা বলার একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই গৃহবধূ। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা নেই। এক ভাই ঢাকায় কাজ করেন, আরেক ভাই চাকরি হারিয়ে প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাচ্ছে। ওরা কোথা থেকে টাকা দেবে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

এ বিষয়ে দিলরুবা আক্তার টুম্পার স্বামী অছিউর রহমান প্রাণের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রোগীর পায়ে চারটে সেলাই দেওয়া হয়েছে এখন আশঙ্কামুক্ত। তাকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে টুম্পাকে উদ্ধারকারী হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এ বিষয়ে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রবিউল হোসেন/এসআর/জেআইএম