ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নির্মাণের ২ বছরে হেলে পড়ে কালভার্ট, এবার ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব

জেলা প্রতিনিধি | টাঙ্গাইল | প্রকাশিত: ০৭:০৯ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২১

টাঙ্গাইলের বাসাইলে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই হেলে পড়েছে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি কালভার্ট। এরপরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। উল্টো ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করে একই স্থানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উপজেলার কাঞ্চনপুর-নাটিয়াপাড়া ও হালুয়াপাড়া গ্রোথ সেন্টার থেকে কাজিরাপাড়া সড়কের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এলজিইডির তত্ত্বাবধায়নে ১৩.১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৫.৫ মিটার প্রস্থ কালভার্টটি নির্মাণ করে মেসার্স এসকে টিম্বার নামের ঠিকাদারি একটি প্রতিষ্ঠান। কালভার্টটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণের অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয়রা। নির্মাণের দুই বছর যেতে না যেতেই গত বর্ষায় হেলে পড়েছে কালভার্টটি। কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করতে শিকল টেনে ও নানা দেশীয় পদ্ধতি ব্যবহার করেও সোজা করতে ব্যর্থ হয়েছে স্থানীয়রা। কালভার্টটি হেলে পড়ায় আগামী বর্ষায় ওই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে জানান স্থানীয়রা। কালভার্টের পরিবর্তে বড় ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তারা।

jagonews24

অন্যদিকে একই সময়ে কালভার্টের সঙ্গে ১৮০ মিটার পাকা সড়ক সংযুক্ত করে ৫৩ লাখ টাকা ব্যায়ে কাজটি করা হয়। এরই মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় ৬০ লাখ টাকা ব্যায়ে আবার মেরামতের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুন অর রশিদ বলেন, ‘এখানে একটি ব্রিজের খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কালভার্ট নির্মাণ করে। কালভার্ট নির্মাণ করার কারণে সেখানে নৌকা চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। কালভার্টটি গত বর্ষায় হেলে পড়েছে। বর্তমানে কালভার্টটি পরিত্যক্ত। এ অবস্থায় শিকল টেনে কালভার্টটি সোজা করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এ এলাকায় কালভার্টের পরিবর্তে বড় একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে ভালো হত। বর্ষায় নৌকাও চলাচল করতে পারতো।’

jagonews24

মেসার্স এসকে টিম্বার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সুনিল বসাকের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) বাসাইল উপজেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল আলম বলেন, ‘একটি কালভার্ট ও ১৮০ মিটার পাকা সড়ক ৫৩ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের দুই বছরের মাথায় বন্যার পানির স্রোতে কালভার্টটি হেলে পড়েছে। তবে ওই কালভার্ট তৈরিতে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। এখানে নতুন আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

আরিফ উর রহমান টগর/এসজে/এএসএম