৪ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই ভোগান্তির
টাঙ্গাইলের দেওহাটা-ধানতারা আঞ্চলিক সড়কের দেওহাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে শিল্পপতি নুরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব প্রায় সোয়া চার কিলোমিটার। সড়কটির ওপর কার্পেটিং নেই। দেখে বোঝার উপায় নেই সড়কটি কার্পেটিং করা হয়েছিল। এরমধ্যে আবার সড়কটির একটি ব্রিজের মাঝখানে ভেঙে গর্ত হয়ে পড়েছে।
এই চার কিলোমিটার সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ২০টি ইটভাটা। ওইসব ভাটায় মাটি, কয়লা, লাকরি ও ইট বহনে প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন চলাচল করছে। সড়কটিতে ভারী ট্রাক চলার কারণে ইট, পিচ, খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই পাকা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।

সড়কটি দিয়ে স্থানীয়রা ছাড়াও সাভার, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, সাটুরিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। তারা বলছেন, অতিদ্রুত সড়কটি মেরামত করা না হলে আগামী বর্ষায় জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে উঠবে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভারী যান চলাচলের কারণে কার্পেটিং উঠে পুরো সড়কটিতে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাক থেকে কাঁদামাটি পড়ে পুরো সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। সড়কের কোথাও কোথাও পানি জমেছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা থেকে ধামরাই হয়ে ঢাকা যাওয়ার অন্যতম সড়ক দেওহাটা-ধানতারা আঞ্চলিক সড়ক। এই সড়কটি মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ধামরাই, মানিকগঞ্জ, সাভার, সাটুরিয়া ও ঢাকায় যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকেন। ১৯৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির দেওহাটা এলাকায় ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণ করে। তারপর থেকে একাধিকবার ওই সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের কাজ হলেও জরাজীর্ণ ব্রিজটি আগের মতোই রয়ে গেছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কর্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়।
মির্জাপুর এলজিইডি অফিস ২০১৮ সালে দেওহাটা থেকে চান্দুলিয়া আলহাজ শিল্পপতি নুরুল ইসলাম ব্রিজ পর্যন্ত সোয়া চার কিলোমিটার সড়কটি সংস্কার করে। টাঙ্গাইলের আর এস এন্টারপ্রাইজ টেন্ডারের মাধ্যমে ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার করা হয়। সংস্কারের ১৫ দিনের মধ্যেই এলাকাবাসী হাত দিয়ে কার্পেটিং টেনে তোলেন। তারা কাজের মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেন। এ নিয়ে জাগোনিউজ২৪.কম-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, গতবছর ওই ব্রিজের কয়েক স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় তা আস্তে আস্তে ভাঙনে পরিণত হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন ওই গর্ত ঢালাই দিয়ে সংস্কার করেন। সড়কটি কার্পেটিং উঠে গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে পুরো রাস্তা কাদায় পরিণত হয়। গর্তে পড়ে প্রতিদিন একাধিক যান বিকল হচ্ছে। পথচারীদের চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রোববার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ব্রিজের ওপর দিয়ে ছোট বড় যানবাহন চলছে। একটি যান ব্রিজের ওপর উঠলে অপর প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।
মীর দেওহাটা গ্রামের টুটুল, কাদের, জুয়েল, শাজাহান ও রাজ্জাক জানান, সড়কটি ব্যস্ততম সড়ক। সময় বাঁচাতে ও দুর্ঘটনা এড়াতে ঢাকা, ধামরাই, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ ও মির্জাপুরের লোকজন এই সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন। তিন বছর আগে সড়কটি নির্মাণ করা হলেও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় নানা প্রশ্ন ওঠে।

ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলরত যানবাহনের চালক শওকত হোসেন, আরজু মিয়া, মফিজ উদ্দিন জানান, সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে যে বোঝার উপায় নেই সড়কটি কখনো কার্পেটিং করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মির্জাপুরের কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, সড়কটিতে ৮-১০ টনের যানবাহন চলাচলের উপযোগী। সেখানে ২০-২৫ টনের যানবাহন চলাচল করছে। সড়কটি দিয়ে ২০টি ভাটা ও একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভারী ট্রাক চলাচল করছে। প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমে মাটিভর্তি শত শত বড় ড্রাম ট্রাক ভাটায় চলাচল করে। এ কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জানতে চাইলে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাটির টেন্ডার দেয়া হবে। আশা করছি, খুব দ্রুতই রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী হবে।
এস এম এরশাদ/এসআর/জেআইএম