ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফেলনা জিনিস খোঁজাই তাদের কাজ

জেলা প্রতিনিধি | কুমিল্লা | প্রকাশিত: ০৭:৩৪ পিএম, ২৩ মে ২০২১

হাতে প্লাস্টিকের বস্তা। অনেকের আবার থাকে ভ্যান। সারাদিন এমন বহু মানুষকে দেখা যায় কুমিল্লা শহরে। তাদের একমাত্র কাজ ফেলনা জিনিস ক্রয়-বিক্রয় ও এসব খোঁজা। কুমিল্লায় বসবাসকারী এমন ৬শ’ মানুষের আয়ের উৎস ফেলনা জিনিসপত্র।

এদের বলা হয় ভাঙারি বিক্রেতা। যাদের পেশা বাসা-বাড়ির পুরোনো জিনিসপত্র কেনা, বা রাস্তা ও ময়লার ভাগাড়ে ফেলনা জিনিসপত্র খুঁজে এনে বিক্রি করা। শহর ছেড়ে প্রতিদিন অনেকে গ্রামের পথেও পাড়ি দেন ফেলনা জিনিসের খোঁজে।

কুমিল্লার স্থানীয় ভাঙারি বিক্রেতা শাকিল বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে শহরে হাঁটা শুরু করি। বাসাবাড়ি থেকে জিনিসপত্র কিনি। সারাদিন যা পাই, তা নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরি। আমি ও আমার সঙ্গে প্রায় ১৫-২০ জন একটা বস্তিতে থাকে। আবার অনেকে রাস্তা বা গলির পাশে কোন ফ্ল্যাটের নিচে শুয়ে কোনোমতে রাত পার করে।

তিনি আরও জানান, অনেক ভাঙারি বিক্রেতা বেশি টাকা একবারে পেতে তার মালামাল জমিয়ে রাখেন। পরে একদিনে এগুলো বিক্রি করে দেন। এরা অনেক দিনের মালামাল বিক্রির অর্থ একসঙ্গে নিয়ে থাকেন। আবার কেউ প্রতিদিনের টাকা আলাদাভাবেও নিতে পারেন। যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই তাদের মালিকের সঙ্গে চুক্তি করা থাকে। এই মালামাল বিক্রির টাকায় চলে একজন ভাঙারি বিক্রেতার সংসার।

হাজি তৈয়ব আলী নামে চকবাজারের এক ভাঙারি দোকানি বলেন, আমার দোকানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন হকার প্রতিদিন মালামাল নিয়ে আসে। অনেকে শহরের বাইরেও যায়। অনেক নারীও আসে। তারা আমার কাছে মালামাল বিক্রি করে। আমি মালগুলো বড় বড় ফ্যাক্টরিতে পাঠাই।

কুমিল্লা পুরোনো লৌহ ভাঙারি মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম জানান, শহরে অবস্থানরত এমন ৬০০ মানুষের আয়ের পথই ফেলনা জিনিস বিক্রি করা। দিনে ৪০০-৫০০ টাকা আয় করা মানুষগুলোর অনেকেই কুমিল্লার বাইরের জেলা-উপজেলা থেকে এসে শহরে ভাঙারি ব্যবসায় জড়িত হন। কুমিল্লার স্থায়ী ভাঙারি ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি।

তিনি আরও জানান, কুমিল্লা শহরে ১২০টি ভাঙারি দোকান রয়েছে। এই দোকানেই ফেলনা মালামাল বিক্রি করেন ভাঙারি বিক্রেতারা। এই মালামালের মধ্যে রয়েছে-অব্যবহৃত প্লাস্টিকের জিনিসপত্র, লোহা ও স্টিলের জিনিসপত্র। আবার রয়েছে রাবার ও কাঁচের জিনিসপত্র। এগুলো পাইকারি দরে কিনে বিভিন্ন প্লাস্টিক কোম্পানি ও জ্বালানির কাজে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয় মিল-ফ্যাক্টরিতে। আবার অনেক প্লাস্টিক দোকানি নিজেই ফেলনা প্লাস্টিক জিনিসপত্র দিয়ে নতুন করে জিনিসপত্র তৈরি করে। তার মধ্যে প্লাস্টিকের সুতা অন্যতম।

জেডএইচ/এমকেএইচ