ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ : একঘরে থেকে মুক্তি পেল সেই তিন পরিবার

জেলা প্রতিনিধি | লালমনিরহাট | প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ২৩ মে ২০২১

লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ছেকনাপাড়া গ্রামে ফতোয়া দিয়ে একঘরে রাখা থেকে তিন পরিবার অবশেষে মুক্তি পেল। বিবদমান দুই পক্ষ সমঝোতা করতে রাজি হওয়ায় তাদের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

রোববার (২৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এসময় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর দুই পক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ মে) ‘লালমনিরহাটে একঘরে তিন পরিবার, পড়তে দেয়া হয়নি ঈদের নামাজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগোনিউজ২৪.কম। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ছেকনাপাড়া গ্রামে ফতোয়া দিয়ে তিন পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই তিন পরিবারকে ঈদের নামাজও পড়তে দেয়া হয়নি। নিরীহ ওই তিন পরিবারের বাড়িতে এলাকার অন্যান্য মানুষের প্রবেশ, কোনো প্রকার লেনদেন, দোকানপাটে কেনাবেচা এবং ক্ষেত-খামারে কোনো শ্রমিক কাজ না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তিন পরিবার ওই এলাকার মসজিদ কমিটি সদস্য আব্দুল মতিন ও ইমাম মাওলানা সহিদার রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ২০ মে তারা লিখিত অভিযোগটি দেন।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ছেকনাপাড়া গ্রামে রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল মতিনের পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে আব্দুল মতিন ও ছেকনাপাড়া বাইতুল মাকাম জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সহিদার রহমান মিলে তিন পরিবারের লোকজনের ওপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফতোয়া জারি করেন। রিয়াজুল ইসলাম (৭০), ইসাহাক আলী (৮৪) ও শতবর্ষী এমাদ উদ্দিন সরকারের পরিবারের ওপর এই ফতোয়া জারি করা হয়।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার বলেন, ওই তিন পরিবার লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

রবিউল হাসান/এসআর/এমএস