ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে সুনামগঞ্জের ৯ হাজার গ্রাহক

জেলা প্রতিনিধি | সুনামগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৬:৪৯ পিএম, ২৬ মে ২০২১

বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসীনতায় সুনামগঞ্জের দুটি অঞ্চলের ৯ হাজার গ্রাহককে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কেবল সংস্কার কাজ করলেই এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারেন দুটি বৃহৎ অঞ্চলের মানুষ।

বহুদিন ধরে এসব এলাকার গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না। সামান্য ঝড়ো হাওয়া বা বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ ভেলকিবাজিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় এসব এলাকার বাসিন্দাদের। বিদ্যুৎ ভোগান্তি সঙ্গে নিয়েই যুগ যুগ কাটিয়ে দিচ্ছেন তারা। শহরে বসবাস করলেও বিদ্যুতের শহরী সুবিধা পাচ্ছেন না সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার এসব বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই। শহরের ওয়েজখালীতে শত কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ সাব স্টেশন নির্মাণের পর ওখান থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তা সুনামগঞ্জের ৩০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহককে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করলেও বিদ্যুতের কোনো সংকট হবে না। আরও অনেক বেশি গ্রাহককে এই সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সামান্য সংস্কার কাজের জন্য শহরের বনানীপাড়া, আলীপাড়া, মোহাম্মদপুর, নবীনগর, মাইজবাড়ি এলাকা এবং হাজীপাড়া, পূর্ব পশ্চিম-উত্তর দক্ষিণ নতুনপাড়া, বাঁধনপাড়া, শহীদ আবুল হোসেন রোড, শান্তিবাগ, হাসননগর, নতুন হাছননগর, আপ্তাবনগর ও সুলতানপুর এলাকার মানুষ পৌরসভার বাসিন্দা হলেও শহরের বিদ্যুৎ সুবিধা পান না তারা।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ফিডার ব্যবহার করা হচ্ছে ৬টি। ফিডারগুলো হচ্ছে, পশ্চিম হাজীপাড়ার বিদ্যুৎ অফিস থেকে ষোলঘর রামকৃষ্ণ মিশন পর্যন্ত, এই ফিডারকে বলা হয় থানা ফিডার।

বিদ্যুৎ অফিস থেকে মল্লিকপুর, ওয়েজখালী হয়ে জলিলপুর পর্যন্ত, এই ফিডার মল্লিকপুর ফিডার। হালুয়ার কারাগারের সামনা থেকে দিরাই সড়ক মোড় পর্যন্ত হচ্ছে দিরাই ফিডার। পশ্চিম হাজীপাড়া অফিস থেকে বড়পাড়া, তেঘরিয়া, আরপিননগর, জেলরোড, পশ্চিম বাজার, মাছবাজার ফিডার, এই ফিডারকে বলা হয় বড়পাড়া ফিডার।

সবচেয়ে বড় দুটি ফিডার হচ্ছে পশ্চিম হাজীপাড়ার বিদ্যুৎ অফিস থেকে হাজীপাড়া, পূর্ব পশ্চিম-উত্তর দক্ষিণ নতুন পাড়া, বাঁধনপাড়া, শহীদ আবুল হোসেন রোড, শান্তিবাগ, হাসননগর, নতুন হাছননগর, আপ্তাবনগর ও সুলতানপুর হয়ে পৌরসভার বাইরের বুড়িস্থল হয়ে বেতগঞ্জ পর্যন্ত অন্তত ১০টি গ্রামের ফিডার, এই ফিডারকে বলা বেতগঞ্জ ফিডার।

দীর্ঘ এই ফিডার থেকে চার হাজার দুইশ’ বিদ্যুৎ গ্রাহক সংযোগ নিয়েছেন। ঠিক একইভাবে শহরের বনানীপাড়া, আলীপাড়া, মোহাম্মদপুর, নবীনগর, মাইজবাড়ি, বদিপুর এলাকা হয়ে পৌরসভার বাইরের আরও কয়েকটি গ্রাম হয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি পর্যন্ত যাওয়া বিদ্যুৎ লাইন থেকে চার হাজার আটশ’ গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মচারী বললেন, বেতগঞ্জ ও আমবাড়ি ফিডারের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে থাকারই কথা। ১০-১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দুই বিদ্যুৎ ফিডার থেকে কয়েক হাজার মানুষ সংযোগ নিয়েছেন। গ্রাহকের এমনও সংযোগ আছে, দীর্ঘ লাইন বাঁশের খুঁটি দিয়ে নেয়া হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া বা বৃষ্টিতে একজনের সমস্যা হলে পুরো লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একটি স্থানে বাঁশ বা গাছের ডাল পড়লে সকলকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

শহরের হাছননগরের বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন বলেন, শহরের হাজীপাড়া থেকে বেতগঞ্জ এক লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এখানে দুটি লাইন হওয়া জরুরি। বেতগঞ্জের কোনো গ্রাহকের সংযোগ লাইনে সমস্যা হলেও আমিও বিদ্যুৎ পাব না।

তিনি বলেন, এটি মেনে নেয়া যায় কীভাবে? পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত এক লাইনে সরবরাহ, গ্রামীণ এলাকায় আরেক লাইন থাকতে পারে। আবার গ্রামীণ লাইনগুলোকে পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে সংযুক্তও করা যেতে পারে।

বনানীপাড়ার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আবু আলী সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, পৌরসভা এলাকার বাসিন্দারা বিদ্যুতের ক্ষেত্রে শহরের সুবিধা পাবে না, এটি হয় না। নবীনগর থেকে আমবাড়ি পর্যন্ত এক ফিডার রাখা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। হয় এই ফিডারকে দুইভাগে ভাগ করা হোক। না হয় আমাদেরকে সুনামগঞ্জ সদর থানার ফিডারে যুক্ত করা হোক।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান, বেতগঞ্জ ফিডারকে দুই ভাগে (ডুয়েল সোর্স) ভাগ করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যেই হয়তোবা এই ফিডারের গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন।

দীর্ঘ লাইন থাকায় বেতগঞ্জ ও আমবাড়ি ফিডারের গ্রাহকরা অন্য ফিডারের মতো নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না স্বীকার করে তিনি বলেন, আমবাড়ির বিদ্যুৎ ফিডার বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প সিলেট’এর আওতাভুক্ত হওয়ায় এই কাজ আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এটি করতে হবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প সিলেট অফিসকেই। আমরা তাদের তাগাদা দিচ্ছি।

লিপসন আহমেদ/এমআরএম/এএসএম