ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চাকরি করেন দেশে থাকেন ভারতে : সেই চামেলী শিকদারের বেতন-ভাতা বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ০৮ জুন ২০২১

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিবার কল্যাণ সহকারী চামেলি শিকদারের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কর্মস্থলে ছুটি না নিয়ে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের পর তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হলো।

ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা রবিন বিশ্বাস জাগো নিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, পরিবার কল্যাণ সহকারী চামেলি শিকদারের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ পেয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নোটিশের জবাব দেননি।

পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা রবিন বিশ্বাস আরও জানান, পরিবার কল্যাণ সহকারী চামেলী শিকদারের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে জাগোনিউজ২৪.কম খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহ থেকে তার বেতন-ভাতা প্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি জাগো নিউজকে আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পরিবার কল্যাণ সহকারী চামেলি শিকদারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।

চামেলি শিকদারের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পল্লিবেড়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকায় পরিবার কল্যাণ সহকারি হিসেবে নিযুক্ত আছেন।

সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, গত প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না চামেলী শিকদার। বছরের বেশিরভাগ সময় তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ায় পরিবারসহ অবস্থান করেন। সেখানে তার বাড়ি রয়েছে। সন্তানেরাও সেখান থেকে পড়াশোনা করছে। তিনি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কিংবা ছুটি না নিয়েই ভারতে অবস্থান করে আসছেন।

এ বিষয়ে গত ২ জুন ‘সরকারি চাকরি করেন দেশে, থাকেন ভারতে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগোনিউজ২৪.কম। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে অভিযোগের তদন্তের ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং চামেলী শিকদারকে কৈফিয়ত তলব করা হয়।

jagonews24

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিমউদ্দিন বলেন, চামেলী শিকদারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার গেছে। তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চামেলী শিকদারের স্বামী সুশান্ত শিকদার কাউলীবেড়া কাজী ওয়ালীউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। সুশান্ত শিকদারও কর্মস্থলে ছুটি না নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানান ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিন। যদিও করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, চামেলী শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, কর্মস্থল থেকে ব্যবস্থা নেয়ার খবরের পর চামেলী শিকদার ভারত থেকে দেশে এসেছেন বলে খবর পাওয়া যায়। তবে তার বাড়িতে খোঁজ নিয়ে দেখা মেলেনি। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে রিং হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চামেলি শিকদারের স্বামী সুশান্ত শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বাড়িতে যাওয়া হয়। সেখানেও না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এসআর/এমকেএইচ