ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে ২০ গ্রামের মানুষের চলাচল
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের লাওঘাট্টা এলাকার মহিষডাঙ্গা খালের ওপর প্রায় ৩৫ বছর আগে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। দৈর্ঘ্যে ছয় মিটারের বেশি হলেও এটিকে কালভার্টও বলা চলে।
তৎকালীন সময়ে ওই ব্রিজ দিয়ে তেমন ভারি যানবাহন চলাচল করত না। ফলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কালের পরিক্রমায় ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। একইসঙ্গে ভারি যানবাহনও চলতে দেখা যায়।
ফলে ভেঙে গেছে ব্রিজটি। ঢালাই ধসে বেরিয়ে গেছে রড। সর্বসাকুল্যে ১৮-১৯ ফিটের ব্রিজটির কয়েক জায়গায় গর্ত হয়ে গেছে। গর্ত দিয়ে তাকালে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি দেখা যায়। ভেঙে পড়েছে ব্রিজটির দুই পাশের স্প্যানও। ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মহিষডাঙ্গা খালের ওপরের ব্রিজটি।

ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজ দিয়ে এখন প্রতিদিন অন্তত ২০ গ্রামের বাসিন্দারা চলাচল করছেন। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে শিক্ষার্থী ও অফিসমুখী মানুষের চলাচল বাড়ে। এসময় ব্রিজের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে।
স্থানীয়রা বলছেন—প্রায় দুই বছর আগে ব্রিজটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজ দিয়েই সবাই চলাচল করছে। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিজের ওপর দিয়ে চককীর্তি, ভাটুপাড়া, সিরোপাড়া, বারোমাসিয়া, নামোটোলা, পিরোনটোল, আব্বাস বাজার, কানসাট, মোবারকপুর, হাজিডাঙ্গা, আঁখিরা, গোঁসাইবাড়ি, পোলাডাঙ্গা, ফকিরপাড়া, রানীনগর, দিয়াড়, ধাইনগর, মহিপুর, গুপ্তমানিক, নাককাটিতলা ও চৈতন্যপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। এছাড়া কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জানা গেছে, ১৯৮৫-৮৬ সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ডা. মইন উদ্দিন আহমেদের উদ্যোগে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। তার ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল কিছুদিন আগে ব্রিজটি পরিদর্শন করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন জরুরি ভিত্তিতে এটি সংস্কার করা হবে।
জানতে চাইলে ধাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ব্রিজটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। পাশাপাশি অন্য কোনো ফান্ড থেকে কাজটি করার চেষ্টা চলছে।’
সোহান মাহমুদ/এএএইচ/এমএস