ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফেসবুকে ‘আদমদীঘি পশুরহাট’

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২১

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মধ্যে দেশে চলছে কঠোর বিধি-নিষেধ। এরই মধ্যে আসন্ন ঈদুল আজহা। গত বছরের মতো এবারও ঈদের আগে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। ফলে কোরবানির পশুরহাট নিয়ে জনমনে বেড়েছে উৎকণ্ঠা।

খামার থেকে গবাদিপশু হাটে নেয়া ও বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা। তবে সেই শঙ্কা কিছুটা হলেও দূর করছে অনলাইনে কোরবানির হাট। খামারিদের চিন্তামুক্ত করতে ‘ফেসবুক’-এ পশু কেনাবেচার প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে পশু বেচা-কেনা করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ‘পশুর হাট, আদমদীঘি, বগুড়া’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে সেখানে উপজেলার খামারিদের যুক্ত করা হচ্ছে। সেই গ্রুপে তারা নিজেদের খামারের গবাদিপশুর ছবি দিয়ে বর্ণনা ও মালিকের ফোন নম্বর যুক্ত করে আপলোড করছেন।

jagonews24

কোনো ক্রেতা চাইলে তাকে লাইভে পশু দেখানোর ব্যবস্থাও রেখেছেন তারা। ইতোমধ্যে অনলাইনে বেচা-বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এখন অনেক খামারি ফেসবুক নিজস্ব পেজ এবং গ্রুপ খুলে পশু বিক্রি শুরু করেছেন। অনলাইনে পশু বেচা-কেনা করোনা সমংক্রমণরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন সচেতন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

সান্তাহার পৌর এলাকার খামারি ফুল মোহাম্মদ সবুজ জানান, এ বছর তিনি খামারে ৩২টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে পুষ্টিকর খাবার—খৈল, গম, ভূষি, ছোলাসহ সবুজ ঘাস খাইয়ে খুব সহজেই গরুগুলো মোটাতাজা করেছেন। তবে আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে সারা দেশে লকডাউন চলায় এসব গরু বিক্রি করা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন।

তিনি জানান, অনলাইনে গরু বেচতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উদ্যোগ দেখে নিজেও ফেসবুকে প্রচারণা শুরু করেন। এখন খামারে অনেকেই গরু দেখতে আসছেন।

খামারি সবুজ বলেন, গরুগুলোর মধ্যে শখ করে সবচেয়ে বড় ও বেশি ওজনের গরুটির নাম রেখেছি ‘তুফান’। যার ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি। আমি ৮ লাখ টাকা দাম চাইছি। এছাড়াও ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল, সিন্ধি ও ব্রাহামাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় গরু আমার খামারে আছে।

উপজেলার আরেক খামারি জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের লোকজন এসে তার পশুগুলোর ছবি তুলে এবং মোবাইল নম্বর নিয়ে গেছেন। পরে তাদের ফেইসবুক গ্রুপে আপলোড দেয়ায় এখন এসব পশু কিনতে অনেকেই তাকে কল করেছেন। ফলে পশুগুলো বিক্রি করা নিয়ে তিনি এখন চিন্তামুক্ত।

jagonews24

ক্রেতা অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাট যখন বন্ধ, তখন অনলাইনে বা ফেসবুকে পশু কেনা-বেচার উদ্যোগ প্রসংশনীয়। সোমবার সকালে ফেসবুক খুলে দেখলাম খামার থেকেই গরু বিক্রি করার ইচ্ছে পোষণ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এক খামারি। সেখানে একটি গরু পছন্দ হওয়ায় বুকিং দিয়ে এখন দেখতে যাচ্ছি। দামে হলে কোরবানির জন্য নিয়ে আসব।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কামরুন্নাহার আকতার বলেন, ‘উপজেলায় ২ হাজার ৪০০ খামারি রয়েছে। এবার তারা কোরবানির জন্য গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মিলে প্রায় ২৫ হাজার পশু প্রস্তুত করেছেন। এগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।’

তিনি বলেন, ‘খামারিরা অনেকেই বাড়ি থেকে তাদের পশু বিক্রি শুরু করছেন। আর যাদের পশু বিক্রি হচ্ছে না বা করতে পারছেন না, তাদের পশু অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

এএএইচ/এমকেএইচ