ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নওগাঁ-আত্রাই সড়কের বেহাল দশা : মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ০৪:০০ এএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৫

ভাঙনের পর দীর্ঘ ৫ মাস পার হলেও নওগাঁ-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কটির সংস্কার হয়নি। আত্রাইয়ের মির্জাপুর এলাকায় সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় প্রায় তিন লাখ মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া নওগাঁ শহরের সঙ্গে আত্রাইয়ের যাতায়াত বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা, রাস্তার কাজে অনিয়ম ও দুনীর্তি করায় পর পর দুই বছর একই স্থানে ভেঙে যায়। আগামীতে প্রশাসনিক নজদারিতে দ্রুত সড়কটি সঠিকভাবে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, জেলার আত্রাই উপজেলার ভবানিপুর, মির্জাপুর, রসুলপুর, হাটকালুপাড়া এলাকায় আত্রাই নদী ও ছোট যমুনা নদীর মোহনা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দুই নদীতে সামান্য পানি বৃদ্ধি পেলেই মুহূর্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। গত বছরের মতো এবারও আত্রাই-নওগাঁ চলাচলের একমাত্র আঞ্চলিক সড়কের মির্জাপুর এলাকায় গত ২৩ আগস্ট ভোরে ভেঙে যায়। এতে রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানিবন্দি হয়ে পড়েন দেড় লাখ মানুষ।

পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ ৫ মাসেও সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় নওগাঁ-আত্রাই সড়কের সকল যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। এতে আত্রাই ও রানীনগর উপজেলার তিন লাখ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মালামাল পরিবহনের জন্যে পথচারীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

ভাঙনের পাশের একটি ইট ভাটার মালিকের প্রয়োজনে তাদের উদ্যেগে তৈরি রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন মানুষ ও ছোট ছোট যানবাহন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপদ বিভাগের সঠিক নজরদারি না থাকায় সড়কটি ভেঙে গেছে।

আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোসলেম আলী বলেন, গত বছর ভাঙনের স্থানটি মেরামতের সময় রাস্তার নিচ থেকে মাটি ও বালু তোলা হয়। দায়সারাভাবে রাস্তাটি মেরামত করায় এ বছরও ভেঙে গেছে।

 ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত খাজা মুন্সী বলেন, নওগাঁ-আত্রাই সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় আশেপাশে প্রায় একশ’ বিঘা ধানি জমিতে বালুর স্তর পরায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব জমিতে ধান চাষ সম্ভব না হওয়ায় অন্য ফসল চাষ করলেও কৃষকদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

পথচারী নাজমুল হক নাহিদ বলেন, নওগাঁ থেকে আত্রাই উপজেলায় যেতে আগে সিএনজিতে ৪৫ টাকা লাগতো। সেখানে বর্তমানে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা লাগে। উপরন্তু আধা ঘণ্টা বেশি সময় লাগে।

Road-Pic
মির্জাপুর গ্রামের ধান ব্যবসায়ী জাবেদ আলী বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর থেকে মির্জাপুর বাজারে ধানের আড়ৎ দিয়ে ধানের ব্যবসা করে আসছেন। আগে এক ট্রলি ধান নওগাঁ-আত্রাই সড়ক দিয়ে সোজা নওগাঁ শহরে নিয়ে যেতে যেখানে ৮শ’ টাকা লাগতো সেখানে ভবানীপুর-শাহাগোলা-আকনা হয়ে ধান নিয়ে যাওয়ার কারণে ১৩’শ থেকে ১৪শ’ টাকা লাগে। এতে বাড়তি খরচ করতে হয়।

শাহাগোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম বলেন, ভাঙা সড়কটি মেরামত না করায় এক সময়ের প্রাণ চঞ্চল নওগাঁ-আত্রাই সড়কটি এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। রাস্তাটি দীর্ঘস্থায়ীভাবে নির্মাণ করতে রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে ব্লক এবং একটি স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি জানান।

শাহাগোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, গত বছর একই স্থানে ভাঙনে ৪২ লাখ টাকা খরচ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরাদ্দের টাকা লুটপাট করায় এ বছরও সড়কটি ভেঙে যায়। বাঁধে ফাটল দেখা দিলে বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দাবি জানালে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা কোনো বরাদ্দ নেই বলে জানান। কিন্তু বাঁধ ভাঙার পর লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে লুটপাট করেন কর্মকর্তারা। যার কারণেই বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, আগামী দু’এক মাসের মধ্যে রাস্তাটি মেরামত করার পাশাপাশি নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখানে একটি স্লুইচ গেইট নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে। তবে গত বছর ভাঙন স্থানটি মেরামত করার সময় অনিয়ম ও টাকা লুটপাটের প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে তা এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, বন্যার পানির চাপ বেশি হলে কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

আব্বাস আলী/এসএস/আরআইপি