ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘অসুস্থ বাবাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভুল করেছি’

জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশিত: ০৩:২৮ পিএম, ১০ জুলাই ২০২১

লক্ষ্মীপুরে শয্যাশায়ী শফিকুল ইসলামকে (৯৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে ঘরে এনে তুলেছেন তার ছেলেরা। শনিবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সফিকুল ইসলামকে দুই ছেলে শাহ আলম ও আলমগীর হোসেন এবং নাতি সিয়াম আহমেদ তাকে নিয়ে আসেন। এর আগে অসুস্থ বাবাকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখেছিলেন দুই ছেলে।

বাবাকে উঠানে ফেলে রাখার ঘটনায় এখন অনুতপ্ত দুই ছেলে শাহ আলম ও আলমগীর হোসেন। শনিবার তারা জাগো নিউজকে বলেন, অসুস্থ বাবাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভুল করেছি। এখন থেকে বাবা আমাদের কাছেই থাকবেন। তার সেবাযত্ন আমরাই করব। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল বলেও জানান তারা।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা পাটওয়ারী বলেন, শফিকুলের ছেলেরা তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে নিয়ে এসেছেন। এখন তিনি বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের ঘরেই আছেন। ভবিষ্যতে ফের এমন কোনো কাজ করবেন না বলে ছেলেরা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিতরোগে বাসায় শয্যাশায়ী শফিকুল। তিনি ছাপাখানায় কাজ করতেন। দুই বছর আগে চার ছেলে ও তিন মেয়েকে তার সম্পত্তি ভাগ করে দেন। ছেলেদের মধ্যে শাহ আলম অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য, জাহাঙ্গীর আলম বিজিবি সদস্য, আলমগীর হোসেন প্রবাসী। অন্য ছেলে সোহাগ কয়েকবছর আগে মারা যান।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ছেলেদের বিলাসবহুল বহুতল বাড়ি রয়েছে। শফিকুল ছেলে জাহাঙ্গীরের বাসায় ছিলেন। কিন্তু বাবার পরিচর্যা করতে অনীহা দেখিয়ে শুক্রবার (৯ জুলাই) সকালে বাসা থেকে বের করে ছেলে শাহ আলমের বাসার সামনে উঠানে মাটির মধ্যে শীতলপাটির মধ্যে ফেলে রাখেন। এরপর কোনো ছেলেই বাবাকে ঘরে তোলেননি। উঠানে শফিকুলকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনকে জানান।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল ও রাজীব হোসেন শফিকুলকে উদ্ধার করেন। এসময় তারা ছেলে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় এবং তাদের ব্যবস্থাপনায় শফিকুলের বড়মেয়ে সুরাইয়া বেগমের পৌরসভার মজুপুর এলাকার শ্বশুরবাড়িতে তাকে পৌঁছে দেয়া হয়।

পরে বিকেলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশিদ ঘটনাস্থল এসে শফিকুলের ছেলে ও প্রতিবেশীদের নিয়ে বৈঠক করেন। এসময় বাড়িতে থাকা দুই ছেলে লিখিতভাবে মুচলেকা দিয়ে বাবাকে সঙ্গে রেখে সেবাযত্ন করার অঙ্গীকার করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতেই বোনের বাড়ি থেকে বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে আসেন দুই ছেলে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, বৃদ্ধ শফিকুলের ঘটনাটি মর্মান্তিক। এটি আমাদের মনে দাগ কেটেছে। তার চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহসহ স্বাভাবিক জীবনযাপনে আমরা পাশে আছি।

কাজল কায়েস/এসআর/এমকেএইচ