বর্ষায় ফরিদপুরে নৌকা তৈরি-বিক্রির হিড়িক
বর্ষা মৌসুমে নৌকার কোনো বিকল্প নেই ফরিদপুরের চরাঞ্চল ও পল্লী-গাঁয়ের নিচু এলাকার মানুষের। চারদিক পানিতে থৈ থৈ করে। তখন বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র ভরসা নৌকা। মাছ শিকার কিংবা গরু-ছাগলের ঘাস কাটা থেকে শুরু করে সব কাজকর্ম ও জীবন-যাপন হয়ে ওঠে নৌকাময়।
প্রতি বর্ষায় নতুন নৌকা ব্যবহার করেন এখানকার বেশিরভাগ মানুষ। তাই বর্ষা এলেই নৌকা তৈরি ও বিক্রির হিড়িক পড়ে যায় ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলার এলাকা ও বাজারজুড়ে।
সম্প্রতি সদরপুর, সালথা, নগরকান্দা, চরভদ্রাসন, আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নৌকা তৈরির কারিগররা নতুন নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শুরু হয় নতুন নৌকা তৈরি আর পুরাতন নৌকা মেরামতের কাজ। চৌধুরীর হাট এলাকার লুৎফর কাড়াল, জামাল শিকদার কান্দি গ্রামের আকাব্বর জঙ্গী, চন্দ্র পাড়া এলাকার লতিফ হাওলাদার ও মোসলেম কাজী বলেন, বর্ষা মৌসুমে তাদের একমাত্র নৌকাই চলাচলের প্রধান সম্বল।
সদরপুর উপজেলার চরমানাইড় এলাকার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম, মনির মাতুব্বর জানান, গ্রামাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া তাদের চলাচলের কোনো উপায় নেই। ফলে প্রতিবছরই তারা নৌকা কিনে থাকেন। এ বছর নৌকার দাম একটু বেশি। গত বছর তারা যে নৌকা কিনেছেন তিন থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে সেই একই নৌকা এখন কিনতে হচ্ছে এক থেকে দুই হাজার বেশি টাকায়। আকার ভেদে নৌকা বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে সাত আট হাজার টাকায়।

নৌকা তৈরির কারিগর ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত সদরপুরের সাড়ে সাতরশি বাজারের শুশান্ত বাড়ৈ, পিয়াজখালী হাটের মোহন বাড়ৈ ও আকটেরচর বাজারের দীনেশ মিস্ত্রী, বোয়ালমারীর টোংরাইল, মোড়া, তেঁতুলিয়া, বাজিদাদপুর গ্রামের দেব কুমার শিকারি, রিপন টিকাদার, অসিত বিশ্বাস, সাধন মন্ডল জানান, অতীতে তারা সারা বছর নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে বর্ষার শুরুর জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস শুধু নৌকা তৈরি করেন। এ বছর কাঠসহ লোহা পেরেকের দাম বেশি থাকায় নৌকার দামও একটু বেশি।
গত বছরের চেয়ে এ বছর নৌকার ক্রেতা কম বলে দাবি করেন তারা। এছাড়াও আগের মতো বর্ষাও হয় না। নতুন নৌকাও বানানোর চাহিদা কমে এসেছে।
এন কে বি নয়ন/এসজে/এমকেএইচ