ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উপহারের ঘরে সব জায়গায় ফাটল, বালুর ওপর পলিথিন বিছিয়ে ঢালাই

জেলা প্রতিনিধি | মুন্সিগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৬:৩৪ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২১

দেয়াল, মেঝে ও পিলারজুড়ে সর্বত্রই ফাটল। দেখলে মনে হবে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ঘর। কিন্তু এটি পুরোনো কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘরের চিত্র নয়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় উপহারের ঘরে এমনই বেহাল অবস্থা দেখা গেছে।

নতুন নির্মিত হলেও ঘরগুলোতে উপকারভোগীদের বসবাস শুরুর এক মাস যেতে না যেতেই তৈরি হয়েছে এমন বেহাল দশা। মুন্সিগঞ্জের শিলই ইউনিয়নের দেওয়ানকান্দি এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত ৭৭টি ঘরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

একদিকে ফাটল দেখা দেয়া ঘরে থাকতে প্রাণের ভয়, অন্যদিকে থাকার জায়গা না থাকায় নিরূপায় উপহারভোগীরা। এ অবস্থায় প্রশাসন থেকে ঘরগুলো ফের সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শুধু ফাটলই নয়, এসব ঘর তৈরির ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে নানা অনিয়মের তথ্য। ঘরের মেঝে ঢালাই কাজে ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও বালির ওপর শুধু পলিথিন বিছিয়ে দেয়া হয়েছে ঢালাই। নকশার চেয়ে ঢালাইয়ের ঘনত্বও কম। ঘরের পিলার আর দেয়ালও নকশায় নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে কম। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপে নির্মিত এসব ঘরপ্রতি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হলেও নির্মাণকাজ শেষ হয় মার্চে। প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের পর এক মাস ধরে উপকারভোগীরা ঘরগুলোতে থাকতে শুরু করেছেন।

সরেজমিনে দেওয়ানকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনিয়ম ঢাকতে প্রকল্পের ঘরগুলোতে তড়িঘড়ি করে চলছে সংস্কারকাজ। কম উচ্চতায় নির্মিত দেয়ালের ওপর ইট বসিয়ে শ্রমিকরা ঘরের উচ্চতা বাড়াচ্ছেন। ফাটল দেখা দেয়া ঘরের মেঝে ভেঙে নতুন করে তৈরির চেষ্টা চলছে। সংস্কারকাজের জন্য মেঝের ঢালাই ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে দেখা মিলছে ইটের বদলে ব্যবহার করা পলিথিনের সন্ধান। এসব চিত্রও ধারণ করা হয়েছে জাগো নিউজের ক্যামেরায়।

কাজে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন নির্মাণ শ্রমিকরাও। নতুন করে সংস্কারকাজে এখন বাড়তি প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মতো খরচ হবে বলেন জানান তারা।

সংস্কারকাজে শ্রমিকদের দলনেতা মো. মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন মাটির কারণে কয়েকটা ফ্লোর ভেঙে গেছে। তাই স্যার (ইউএনও) বলেছেন সবগুলো ঘর ঠিক করে দিতে। সেই কাজ করা হচ্ছে। কাজ করতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাগবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শ্রমিক বলেন, ‘মেঝেতে ইট দিয়ে ৫ ইঞ্চির ঢালাইয়ের বদলে ১ ইঞ্চি দেয়া হয়েছে। এখন ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেয়া হবে।’

jagonews24

কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান বিস্তর অভিযোগ। বাহাদুর খান নামের এক উপকারভোগী বলেন, ‘হালকা একটু সিমেন্ট দিয়া ঢালাই কইরা গেছে। এক মাস হইছে উঠছি, এখনই ঘরের অনেক জায়াগায় ফাইটা গেছে।’

বিলকিস নামের আরেক নারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘর দিছে মন থেকে তার জন্য দোয়া করি। তয় এখন ঘরের সব ভাইঙ্গা যাইতাছে, কেমনে থাকুম আমরা?’

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে আগের কর্মকর্তার সময় কাজ হওয়ায় দায় নিতে নারাজ বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। মেরামতের অর্থায়ন কোথা থেকে হচ্ছে, সে ব্যাপারে পাওয়া যায়নি সুস্পষ্ট উত্তর। দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হয় জানুয়ারিতে। যারা নির্মাণের শুরুতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তারাই সব কিছু বলতে পারবেন। আমি এপ্রিলের শেষ দিকে এখানে যোগদান করেছি। এর মধ্যেই যে সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার নির্দেশনা রয়েছে, যাতে কোনোভাবেই বিচ্যুতি না হয়। দ্রুতগতিতে সংস্কারকাজ চলছে। ১০-১৫ দিনের মধ্যে সংস্কার করে দেয়া হবে।’

সংস্কারের জন্য বাড়তি টাকা কে দেবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বরাদ্দের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য আমার কাছে নেই। যারা আগে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তারাই সংস্কারকাজটি করে দিচ্ছেন।

আরাফাত রায়হান সাকিব/এসআর/জেআইএম