ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কাজীরহাট ঘাটে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | পাবনা | প্রকাশিত: ১০:১২ এএম, ১৯ জুলাই ২০২১

ঈদের আগে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে পাবনার বেড়া উপজেলার কাজীরহাট ফেরিঘাটে চার-পাঁচ দিন ধরে আটকে আছে চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। এতে ট্রাকচালক ও শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এমন অবস্থায় অতিরিক্ত ফেরি পারাপারে অতিরিক্ত অর্থ আদয়ের অভিযোগ উঠেছে ঘাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার(১৯ জুলাই) সকালে সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিঘাটের তিনমাথা মোড় থেকে বাঁধেরহাটের দিকে মহাসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের সারি।

পারাপারের অপেক্ষায় থাকা এসব ট্রাকের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তারা এখানে এসে আটকে আছেন। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে তীব্র যানজটের কারণে কাজীরহাট ফেরিঘাটে গরু ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

কাজীরহাট-আরিচা রুটে তিনটি ফেরি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ১৮টি ট্রিপ দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

ঘাটে আটকে থাকা ঢাকার সাভারের ট্রাকচালক রুবেল হোসেনের (৩৫) আশঙ্কা, এবারের ঈদ তাদেরকে কাজীরহাট ঘাটেই করতে হবে। সোনা মসজিদ থেকে পাথর বোঝাই ট্রাক নিয়ে চার দিন আগে ঘাটে আসেন তিনি। এখানে এসে আটকে আছেন। তার সামনে কমপক্ষে ২৫০টি ট্রাক রয়েছে। ফলে তিনি ঈদের আগে ঢাকা পৌঁছাতে পারবেন কি-না, সেটি অনিশ্চিত।

রুবেলসহ বেশ কিছু ট্রাকচালকের অভিযোগ, ট্রাকের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার কার-মাইক্রোবাসগুলো দ্রুত পার হওয়ার জন্য ঘাটের একশ্রেণির অসাধু কর্মীকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আগে সিরিয়াল পেয়ে যাচ্ছে।

এদিন টিকিট কাউন্টারের পাশেও ব্যাপক জটলা লক্ষ্য করা গেছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং গরুবাহী ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হচ্ছে।

২০ বছর ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজীরহাট ফেরিঘাটটি আবারও চালু হয়। চালু হওয়ার পর থেকেই এই নৌপথে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের চাপ বাড়তে থাকে। ঈদুল ফিতরের আগেও এই নৌপথে চারটি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হতো। এরপর গত ১৮ মে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় একটি ফেরি বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন থেকেই মাত্র তিনটি ফেরি দিয়ে এই নৌ-রুটে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার চলছে। যানজট আর টার্মিনাল দখলের কারণে ট্রাকচালক ও শ্রমিকরা থাকা খাওয়া এবং টয়লেট নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।

ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর তদারকিতে থাকা বিআইডব্লিউটিসি কাজীরহাট ফেরিঘাটের লস্কর শামীম হোসেন বলেন, ‘সাধারণত একটি ফেরিতে ১৫ থেকে ১৬টি ট্রাক ওঠানো যায়। কিন্তু বর্তমান ব্যক্তিগত গাড়ি ওঠানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়ায় একটি ফেরিতে চার থেকে পাঁচটির বেশি ট্রাক ওঠানো যাচ্ছে না। কখনো কখনো দু-তিনটি ট্রাক ওঠানোর পর আর জায়গা থাকছে না।’

ঘাটের টার্মিনাল সহকারী (টিএ) আবুল হাসনাইন জানান, রোববার ভোর ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত তিনটি ফেরি দিয়ে মোট ১৮টি ট্রিপ হয়েছে। এতে সাতটি যাত্রীবাহী বাস, ১১৩টি ট্রাক ও ২২৯টি ছোট গাড়ি কাজীরহাট থেকে আরিচায় পার করা হয়েছে। এই টার্মিনালে কমপক্ষে ২০০ ট্রাকের দাঁড়ানোর জায়গা রয়েছে। কিন্তু এটা দখল হয়ে যাওয়ায় একটি ট্রাক দাঁড়ানোরও জায়গা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পারাপারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকগুলোর জন্য কাজীরহাট ফেরিঘাটের পাশে ট্রাক টার্মিনাল থাকলেও দখলের কারণে সেটিও কোনো কাজে আসছে না। ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালটির বেশ খানিকটাজুড়ে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। বাকি অংশে ব্যক্তি মালিকানায় ইট, বালু, খোয়া ও ভেকু মেশিন রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে কোনো ট্রাক ঢোকার মতো উপায় নেই।

jagonews24

এ বিষয়ে কাজীরহাট ট্রাকচালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রইজউদ্দিন বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) এই টার্মিনালে কমপক্ষে ২০০ ট্রাকের দাঁড়ানোর জায়গা রয়েছে। কিন্তু দখল হয়ে যাওয়ায় একটি ট্রাকেরও দাঁড়ানোর জায়গা নেই। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই টার্মিনালটি এভাবে দখল হয়ে আছে।’

ট্রাকচালক মো. বাবলু (৩৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চার-পাঁচ দিন ধরে এভাবে কষ্ট করে রাস্তায় বসে থাকা যায় না। আবার এদিকে টয়লেটের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। আমরা যদি ট্রাক টার্মিনাল ব্যবহার করতে পারতাম, তাহলে রাস্তায় যানজটও থাকত না, আবার আমাদের থাকা-খাওয়া এবং টয়লেট নিয়েও সমস্যা হতো না।’

এ বিষয়ে সওজের পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জোহা বলেন, ‘কাজীরহাটের ট্রাক টার্মিনাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাও বলেছি। টার্মিনালটি দখলমুক্ত হলে ফেরিঘাট সংলগ্ন মহাসড়ক অনেকটাই যানজট মুক্ত হবে।’

বিআইডব্লিউটিসির কাজীরহাট ঘাট ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের নির্ধারিত টোল রয়েছে সে মোতাবেক টোল আদায় করা হয়। বাড়তি কোনো টাকা আদায় করা হয় না। কোনো কোনো ড্রাইভার দালালের খপ্পরে পড়তে পারেন। সেটা তাদের অজ্ঞতার ব্যাপার। টোল সেন্টারে নির্ধারিত টাকাই আদায় হয়।’

টোল আদায়কারীও জানান একই কথা। তিনি বলেন, ‘বাড়তি অর্থ আদায় করা হয় না। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে তা করতে পারেন। সে দায়-দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের নয়।’

রোববার আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জানান, তিনিসহ থানা পুলিশের দুটি টিম ঘাট এলাকায় অবস্থান করছে। তারা শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে কোন স্পিডবোট চলতে দেয়া হচ্ছে না।

তাদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য এখনও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আমিন ইসলাম/এসএস/জেআইএম