তিন প্রতিবন্ধী মেয়ের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব পরিবার
তিন বোন লিপিয়ারা, লতামনি ও ঝুমুর। তাদের বয়স ৩৫, ৩৩ ও ৩০ বছর। তারা তিনজনই জন্মের পর শারীরিক, মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। তাদের হাঁটা চলারও নেই কোনো শক্তি। এর ভেতর বাসা বেঁধেছে নানা রোগও। এই তিন মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এরইমধ্যে জায়গা-জমি বিক্রি করে প্রায় নিঃস্ব তাদের পরিবার।
তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ডিমকইল এলাকার হতদরিদ্র নেকবর আলী ও রিজিয়া বেগমের মেয়ে। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী নেকবর আলী নানান রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনিও ছয়মাস আগে মারা গেছেন। এখন প্রতিবন্ধী তিন মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রিজিয়া। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় সন্তানদের চিকিৎসার খরচ ও খাবারের ব্যবস্থা করতে সরকার ও বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন রিজিয়া বেগম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জিলানী রহমান বলেন, ‘জন্মই যেন আজন্ম পাপ ওই তিন মেয়ের। বাবা মরে যাওয়ায় অভাবে চলছে তাদের পরিবার। এক বেলা খায় তো আরেক বেলা উপোষ। অসুস্থ সন্তানদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন মা। টাকার অভাবে এখন বন্ধ তাদের চিকিৎসাও।’
প্রতিবেশী আয়েশা খাতুন জানান, প্রতিবন্ধী তিন মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন রিজিয়া বেগম। তিন মেয়ের সেবা করতে গিয়ে তিনিও নানান রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মাঝে মধ্যে প্রতিবেশীরা সাহায্য সহযোগিতা করে। তা দিয়ে পরিবারটির জীবন বাঁচানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

প্রতিবন্ধী তিন মেয়ের মা রিজিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সংসারে আয়ের একজনই ছিলেন আমার স্বামী। তিনিও ছয়মাস আগে মারা গেছেন। লিপিয়ারা, লতামনি ও ঝুমুর আমাকে ছাড়া এক ঘণ্টাও থাকে না। সারাক্ষণ মা মা করতে থাকে। আমাকে ধরেই কাঁদে, আমার পাশে বসে থাকে সারাক্ষণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া ঘরেই থাকি। কিন্তু টাকার অভাবে মেয়েদের চিকিৎসা তো দূরের কথা তিন বেলা খাবারও দিতে পারছি না আমি। বিত্তবানদের সহায়তা পেলে আর ১০টা মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন না পেলেও আমার তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যেত।’
নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক জানান, ‘তিন মেয়েকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে আর কিছুই করা সম্ভব নয়। তাই অসহায়দের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাচোল উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আল গালিব বলেন, ‘আমার জানা মতে লিপিয়ারা, লতামনি ও ঝুমুরের প্রতিবন্ধী কার্ড আছে। তবে হুইল চেয়ারের আবেদন করা আছে, আমরা শিগগিরই তা দেয়ার চেষ্টা করছি। আমার নজর সবমসময় এই পরিবাররে ওপর রয়েছে।’
সোহান মাহমুদ/এসজে/এমএস