দুস্থদের অর্থ আত্মসাৎ : মেয়রের হস্তক্ষেপে ফেরত দিলেন কাউন্সিলর
মির্জাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামিম খান
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কৌশলে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি শামিম খান। তবে পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপে তিনি ওই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার (১৯ জুলাই) মির্জাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর শামীম তার ওয়ার্ডের ২৫ জন দুস্থ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র পৌর পরিষদে জমা দিয়ে কৌশলে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন। বিকেলে বিষয়টি জানতে পেরে শামীমসহ কাউন্সিলরদের পরিষদে ডাকেন পৌর মেয়র সালমা আক্তার। এ সময় মেয়র শামীমকে চাপ দিলে তিনি প্রতারণার কথা স্বীকার করেন। পরে পৌর মেয়রের নির্দেশে জিআর ক্যাশ বরাদ্দের অনুদানের টাকা ফেরত দেন তিনি।
আরও জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভায় চারশ দুস্থ মানুষের জন্য ৫০০ টাকা করে দুই লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর জিআর ক্যাশ বরাদ্দ দেয়া হয়। এ টাকার জন্য ৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও তিনজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলররা প্রত্যেকেই জাতীয় পরিচয় পত্রসহ ২৫ জনের নামের তালিকা জমা দেন। এছাড়া পৌর মেয়র ৯ ওয়ার্ডের আরও ১০০ জনের তালিকা জমা দেন।
সোমবার দুপুর থেকে জিআর প্রকল্পের নগদ টাকা বিতরণ শুরু করেন মেয়র। ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি শামীম খান তড়িঘড়ি করে আগেই তার দেয়া নামের তালিকা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী কাউন্সিলর চন্দনা দের কাছ থেকে ২৫ জনের টাকা কৌশলে তুলে নেন। কিন্তু তালিকাভুক্ত প্রকৃত দুস্থরা বরাদ্দকৃত টাকা পাননি বলে অভিযোগ পান পৌর মেয়র। বিষয়টি জানার পর জরুরিভাবে শামীমসহ সব কাউন্সিলরদের পৌর পরিষদে ডাকেন মেয়র। সেখানে ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম বলেন, ‘আমার কাছে থাকা পরিচয়পত্রের ফটোকপি অফিসে জমা দিয়ে আমি প্রতারণা করে টাকা তুলে নিয়েছি।’
পরে পৌর মেয়রের নির্দেশে তিনি ওই টাকা ফেরত দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এ বিষয়ে তালিকায় থাকা সরিষাদাইর গ্রামের প্রকাশ কর্মকারের স্ত্রী মমতা কর্মকার জানান, তিনি পৌরসভা থেকে কোনো টাকা পাননি। তাকে টাকা দেয়া হবে এ বিষয়টিও কেউ জানায়নি।
পাহাড়পুর গ্রামের হামেদ মিয়ার ছেলে মির্জাপুর খেয়া ঘাটের মাঝি মোবারক হোসেনের কাছে পৌরসভা থেকে ৫০০ টাকা পেয়েছেন কি-না জানতে চাইলে বলেন, ‘কেউ তো টাকা দেয়নি।’
কিন্তু ওয়ার্ড কাউন্সিলর তো আপনার নামে থাকা টাকা তুলেছেন, এমন কথা জানার পর তিনি বলেন, ‘এতো কষ্ট করে ওকে নির্বাচিত করলাম, আর আমাদের টাকাও মেরে খেলো!’
এছাড়া তালিকায় নাম থাকলেও টাকা না পাওয়ার কথা জানান- সরিষাদাইর গ্রামের ছোরহাব মিয়ার স্ত্রী হাছনা বেগম, খন্দকার আফতাবের ছেলে খন্দকার শরীফ, নরেশ ঘোষের মেয়ে রুমা ঘোষ ও ঠাকুরবাড়ির নারায়ণ চক্রবর্তী গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছভাবে প্রধানমন্ত্রীর জিআর প্রকল্পের নগদ টাকা বিতরণের বিষয়ে একাধিকবার পরিষদের সভা করা হয়। তারপরও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম প্রতারণার আশ্রয় নেন। তার কাছ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত নিয়ে তালিকা অনুযায়ী বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
এস এম এরশাদ/এমআরআর/এমএস
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ খাগড়াছড়িতে জামায়াত প্রার্থীর বাসভবনে বিস্ফোরণের অভিযোগ
- ২ প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জয়পুরহাটের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার
- ৩ বাঞ্ছারামপুরের ইউএনও ফেরদৌসের অকাল মৃত্যু, প্রশাসনে শোকের ছায়া
- ৪ পুলিশকে কুপিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই, ১৭৯ জনের নামে মামলা
- ৫ রংপুরে রেকটিফাইড স্পিরিট পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫