সেই মুখরতা ঈদেও ফিরল না ময়নামতি-শালবন বিহারে
জনসমাগম আর মানুষের কোলাহলে ১২ মাসই ব্যস্ত থাকতো কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী শালবন বৌদ্ধবিহার। প্রতি ঈদে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় লাখো পর্যটক ঘুরতে আসতেন এ বিহারে। তবে করোনা মহামারি যেন বদলে দিয়েছে সে চিত্র। পাল্টে গেছে পর্যটন শিল্পের অবস্থা। বিধিনিষেধে শালবন বিহারসহ কুমিল্লার পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে এ স্থানগুলোতে ঈদের সময়ও নেই দর্শনার্থীদের ভিড়।
কুমিল্লায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর, বৌদ্ধ বিহার ছাড়াও রূপবানমুড়া, কোটিলা মুড়া, ব্লু ওয়াটার পার্ক, ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক, ফান টাউন পার্ক, রাজেশপুর ইকোপার্ক, কুমিল্লা চিড়িয়াখানা, নগর উদ্যানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পার্ক বিধিনিষেধ মেনে বন্ধ রাখা হয়েছে।

কুমিল্লা নগরী থেকে আট কিলোমিটার পশ্চিমে শালবন বিহার অবস্থিত। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রেল ও সড়কপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকায় এখানে সহজে আসতে পারেন দর্শনার্থীরা। এখানে রয়েছে অষ্টম শতকের পুরাকীর্তি। রয়েছে ময়নামতি জাদুঘর।
জাদুঘরের আশপাশে রয়েছে বন বিভাগের পিকনিক স্পট। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), ব্লু ওয়াটার পার্ক, ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক। কাছাকাছি রয়েছে লালমায়ের বিরল উদ্ভিদ উদ্যান, রূপবানমুড়া ও কোটিলা মুড়া।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শালবন এলাকায় দর্শনার্থীর আনাগোনা নেই। গেটে ঝুলছে তালা। ভেতরে বাতাসে আপন মনে দুলছে সারি সারি ফুল গাছ। এতে ফুটেছে নানা রঙের ফুল। পাতায় পাতায় উড়ছে প্রজাপতি।
পাতাবাহী গাছে গজেছে নতুন পাতা। ভ্রমরের গুঞ্জন চারদিকে। তবে তা শোনার কেউ নেই সেখানে। অবশ্য কয়েকজন দর্শনার্থীকে পাশের শালবাগানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়।

তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘর দেখতে এসেছেন। তবে এগুলো বন্ধ থাকায় পাশের শালবাগান ঘুরে দেখে বাড়ি চলে যাবেন তারা।
এ পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুই-একটি ছাড়া বাকিগুলো বন্ধ রয়েছে। কথা হয় এখানকার ব্যবসায়ী আবুল কালাম কালুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে আমাদের বেচাকেনা। সারাদিন দোকান খুলে বসে থাকি, সামান্য বিক্রি হয়। তবে আগের মতো আর বিক্রি হয় না। ফলে এলাকার অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আগে এখানে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় থাকতো। বর্তমানে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এবার ঈদেও শালবন বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।’
জাহিদ পাটোয়ারী/এসএমএম/জিকেএস