জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ‘নারী নির্যাতন’ মামলা, বাদী গ্রেফতার
ছবি : সংগৃহীত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করায় বাদী বিবি মরিয়মকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ১২ নম্বর কুতুবপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের মফজল মিয়ার বাড়ির থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি ওই গ্রামের মো. ইউছুফ খোকনের স্ত্রী। পরে গ্রেফতার নারীকে নোয়াখালী আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান সিকদার। ওসি জাগো নিউজকে বলেন, গত রোববার (১৮ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় ওই নারীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গ্রেফতার বিবি মরিয়ম সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার স্বামীর ফুফাতো ভাই, তার ছেলে-মেয়ে ও ছেলের বউদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সেনবাগ থানায় একটি নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করতে যান।
তবে ওসি তা প্রাথমিক তদন্ত সাপেক্ষে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে বিবি মরিয়ম তার ছেলেকে দিয়ে নোয়াখালীর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট-৩ নম্বর আমলি আদালতে পিটিশন মামলা (নম্বর ৫৯২) দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরে পিবিআই বাদীর অভিযোগ সত্য নয় বলে আদালতকে অবহিত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পরে একই বাদী ২০১৮ সালের ২৭ জুন বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওই আসামিদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। চলতি বছরের ২৩ মার্চ ওই মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। ফলে আদালত আসামিদেরকে বেকসুর খালাস দেন।
এরপর বিবি মরিয়ম নোয়াখালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি পিটিশন মামলা (নম্বর ৮৫) দায়ের করলে আদালত তা খারিজ করে দেয়। পরে ওই নারী তার ছেলে তানভিরকে দিয়ে গত ১ জুলাই আরেকটি মামলা করলে আসামিরা সেই মামলায়ও জামিন নেন।
এদিকে, ‘মামলাবাজ’ নারীর হয়রানিতে জর্জরিত ভুক্তভোগী পরিবার বিবি মরিয়মের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলাটি বাতিল হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ১৭ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করে। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বিবি মরিয়মের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
ইকবাল হোসেন মজনু/এএএইচ