ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নদী ভাঙনে দিশেহারা মানুষ, ৬৫ বসতভিটা পদ্মাগর্ভে বিলীন

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ১২:১৫ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২১

ফরিদপুরে পদ্মা ও মধুমতি নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তীরে বসবাস করা মানুষ। গত কয়েকদিনে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ভাঙনে ২২টি পরিবারের ৬৫ বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়াও চরভদ্রাসন উপজেলার কয়েকটি স্থানে পদ্মা নদীতে ভাঙন বেড়েছে। আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর, টগরবন্ধ, বাজরা, দিকনগর, পাঁচুড়িয়া, মধুখালী উপজেলার কামারখালী, গয়েশপুর, চর গয়েশপুর এলাকায় মধুমতী নদীতেও বেড়েছে ভাঙন।

jagonews24

এলাকাবাসী জানায়, ১৭ জুলাই থেকে নদীতে ভাঙন শুরু হয়। এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর টিন, কাঠসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র স্তুপ করে রাখা হয়েছে এলজিইডির এইচবিবি সড়কের ওপর। যাদের কিছুটা সামর্থ্য আছে তারা ওই সড়কের ওপরেই নতুন করে কোনমতে ঘর তুলে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন।

jagonews24

নাজির বিশ্বাসের ডাঙ্গী ও আয়জদ্দিনের ডাঙ্গী নামের গ্রাম দুটিতে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাস। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ইটভাটা শ্রমিক। এছাড়াও অনেকেই কৃষি কাজ, ভাঙারি ব্যবসা এবং মুদি দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুটি গ্রামে দুই ইট ভাটা রয়েছে যা এখন ভাঙনের মুখে রয়েছে। ফলে এখানকার বাসিন্দাদের দিন-রাত কাটছে আতঙ্কে।

নাজির বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রাম এলাকার বাসিন্দা (খেয়ামাঝি) সেলিম ফকির (৩৮) বলেন, রোববার (১৮ জুলাই) রাত ৩টার দিকে প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে দেখি পদ্মার পানি ভয়ঙ্কর বেগে ঘরের দিকে আসছে। চিৎকার করে আশপাশের লোকদের ডেকে তুলে ঘর ভেঙে সরাতে শুরু করি। এরই মধ্যে কয়েকটি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

jagonews24

আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা, মনিরুজ্জামান ইকু ও উবায়দুর রহমান জানান, বাজরা, দিকনগর, টগরবন্ধ এলাকায় গত কয়েকদিনে মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে ভাঙন। নদী ভাঙনে মানুষের বসত ভিটা, গাছপালা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সাহায্য করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

jagonews24

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ভাঙন রোধে কী পদক্ষেপ নেয়া যায়, তা সরেজমিনে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এন কে বি নয়ন/এএইচ/এমকেএইচ