ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এসপি-সেনা কর্মকর্তার পরিচয় দিলেও ব্ল্যাকমেইলই ছিল তার পেশা

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ০৩ আগস্ট ২০২১

পরিচয় দিতেন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে। জীবন যাপন ছিল বিলাসবহুল। প্রতারণার জালে ফাঁসিয়ে মেয়েদের কাছ থেকে আদায় করতেন লাখ লাখ টাকা। নওগাঁ থেকে কামরুল হাসান ওরফে সাদ্দাম (২৮) নামের এমনই এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শহরের মল্লিকা ইন হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার সাদ্দাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের কাওসার আলীর ছেলে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কামরুল হাসান ওরফে সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন সময় নিজেকে পুলিশ সুপার, ডিবি, এমবিবিএস ডাক্তার, সেনা কর্মকর্তা ও বড় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পরিচয় দিতেন। চলাফেরা করতেন দামি গাড়িতে, থাকতেন পাঁচতারকা হোটেলে। একাধিক নামে ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন পরিচয়ে মেয়েদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। পরে গোপনে ভিডিও ধারণ করে মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

তিনি আরও বলেন, প্রায় এক বছর আগে শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন সাদ্দাম। এরপর গোপন ভিডিও ধারণ এবং বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে প্রায় দেড় লাখ টাকা ও দুটি ফাঁকা চেক হাতিয়ে নেন। এর পরও থেমে থাকেননি। মেয়েটির দোতলা বাড়ির দিকে নজর পড়লে ব্ল্যাকমেইল করে ১ আগস্ট বিয়ে করতে বাধ্য করে।

পুলিশ সুপার বলেন, জেলার এক উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে মারা যাওয়ার পর নিজেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয় দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে মোবাইলে মা-ছেলের সম্পর্ক গড়েন সাদ্দাম। পরে তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন এবং বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ২০২০ সালের নভেম্বরে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর থেকে ওই নারীকে এড়িয়ে চলা ও মোবাইল বন্ধ রাখেন সাদ্দাম। সোমবার ওই ভাইস চেয়ারম্যান জানতে পারেন শহরের একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছেন সাদ্দাম। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হলে সাদ্দামকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে নিজ এলাকায় সাদ্দামের দুই স্ত্রীর সন্ধান মিলেছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিকে পোল্যান্ড পাঠানোর নামে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত সাদ্দাম। তার বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম মামুন খান চিশতী ও গাজিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাবিনা ইয়াসমিন, অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আব্বাস আলী/এএইচ/জেআইএম