ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মেয়ের কবর খোঁড়া শেষ না হতেই মায়ের মৃত্যু, পরে একসঙ্গে দাফন

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৫:১০ এএম, ১২ আগস্ট ২০২১

করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজবাড়ীর সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামের আকলিমা খাতুন (৫৫)। তাকে দাফনের জন্য কবর খোঁড়া চলছিল।

অন্যদিকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আকলিমার মা আলিয়া বেগম (৭৩)। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি খবর পান তার মেয়ে মারা গেছেন। এ খবর শুনে তিনিও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। পরে মা-মেয়ের জানাজা ও দাফন একসঙ্গে করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মা-মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রতিবেশী আল মামুন আরজু মা-মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন মেয়ে আকলিমা। তিনি ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আর বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও শারীরিক সমস্যা নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মা আলিয়া বেগম। মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে তিনিও মারা যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আকলিমা বেগম সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামের মোস্তাক হোসেনের স্ত্রী। মোস্তাক-আলেয়া বেগম দম্পতির এই একটি মেয়ে ছাড়া আর কোনো সন্তান ছিল না। মোস্তাক হোসেন খুলনায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পরে তারা রায়নগর গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন।

ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আকলিমা বেগম মারা যান। এরপর তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। দাফনের জন্য কবর খোঁড়ার কাজ চলছিল। মেয়ে মারা গেছে এ খবর কানে যায় মা আলিয়া বেগমের। পরে স্ট্রোক করে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এরপর মায়ের জন্য খোঁড়া হয় আরও একটি কবর।

স্থানীয় কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একসঙ্গে মা ও মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের আলাদা কবরে দাফন করা হয়।

এন কে বি নয়ন/এসআর