ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঘাট শ্র‌মি‌কের তৎপরতায় মা-ছে‌লের জীবন রক্ষা

জেলা প্রতিনিধি | রাজবাড়ী | প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২১

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় চার বছরের শিশু মেহেরাবকে নিয়ে নদীতে পড়ে যান মা রোকসানা ইয়াসমিন (২৭)। তারা তীব্র স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলেন। তবে মনির হোসেন নামের ঘাটের একজন শ্রমিকের সহায়তায় তারা বেঁচে গেছেন। তিনি নদীতে ঝাপ দিয়ে মা-ছেলেকে পানি থেকে ওপরে তুলে আনতে সক্ষম হন।

শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সকালে দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার রোকসানা ইয়াসমিন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কুশা ইসাপুর গ্রামের হাসানুজ্জামানের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুরে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে ওই নারী তার স্বামী ও ছেলেসন্তান নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন দিয়ে হেঁটে ফেরিতে উঠছিলেন। তার স্বামী হেঁটে একটু আগে চলে যান। এ সময় ফেরি থেকে নামছিল হানিফ পরিবহনের একটি বাস। সে সময় বাসের চাপা থেকে বাঁচতে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেরে ওই নারী তার সন্তানসহ পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যান। এ সময় পদ্মার তীব্র স্রোত তাদেরকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় সেখানে কর্মরত ফেরির স্টাফ মনির হোসেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করতে নদীতে লাফ দেন এবং তাদেরকে টেনে ধরেন। পড়ে ঘটনাটি দেখে ওই নারীর স্বামীও নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

jagonews24

উদ্ধারকারী ফেরির অস্থায়ী স্টাফ মনির হোসেন জানান, তিনি পন্টুনে ফেরির টিকিট পরীক্ষা করছিলেন। এসময় হঠাৎ এক গৃহবধূ ও শিশু নদীতে পড়ে যায়। তা দেখে তাদের উদ্ধার করতে তিনিও নদীতে ঝাঁপ দেন। এসময় তিনি তাদেরকে ধরতে পারলেও স্রোতের কারণে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছিলেন না। পড়ে ওই গৃহবধূর স্বামী নদীতে ঝাঁপ দিলে দুজনে মিলে তাদেরকে উদ্ধার করে নদীর পাড়ে তোলেন।

ওই নারীর স্বামী হাসানুজ্জামান জানান, তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার স্ত্রী, সন্তান রাজবাড়ী সদরের খানখানাপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় আজ তাদেরকে নিয়ে তিনি ঢাকায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফেরিঘাটে এসে এ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। বর্তমানে স্ত্রী, সন্তান দুজনই ভালো ও সুস্থ আছেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে আবার শ্বশুরবাড়িতেই ফিরে গেছেন।

হাসানুজ্জামান আরও বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমত আর মনির নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় স্ত্রী ও সন্তানকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়েছি। আল্লাহ ওনার মঙ্গল করবেন।’

৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাজাহান শেখ জানান, উদ্ধার করার পর ওই নারী ও তার ছেলেকে সবাই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসেন সুস্থ করার জন্য। সেখানে তারা অনেক সময় অবস্থান করেন। পরে স্বাভাবিক বোধ করলে তাদের স্বজনরা এসে তাদেরকে নিয়ে যান।

রুবেলুর রহমান/এসআর/জিকেএস