থানা থেকে ‘নিখোঁজ’ চিকিৎসক, সাবেক দুই ওসির বিরুদ্ধে মামলা
সাতক্ষীরার কুখরালি এলাকার হোমিও চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান জনিকে অপহরণ ও হত্যার পর মরদেহ গুম করার অভিযোগে ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ আগস্ট) রিটের অনুলিপি, জুডিশিয়াল তদন্ত প্রতিবেদন ও পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি আগামী ১০ দিনের মধ্যে জমা দেয়ার আদেশ দিয়ে ২৯ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেছেন সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হুমায়ূন কবির।
এর আগে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে একই আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিখোঁজ মোখলেসুর রহমান জনি বাবা শেখ আব্দুর রাশেদ।
মামলার আসামিরা হলেন- সাতক্ষীরা সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ শেখ, ফিরোজ মোল্লা ও উপপরিদর্শক (এসআই) হিমেল।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মোখলেসুর রহমান ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট রাত ৯টায় শহরের লাবনী মোড়ে ওষুধ কিনতে যান। এ সময় সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিমেল তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে লকআপের মধ্যে থাকা জনির সঙ্গে কথা বলেন তার স্ত্রী জেসমিন নাহার রেশমা ও বাবা শেখ আব্দুর রাশেদ। পরপর দুই দিন সাক্ষাৎ করে তাকে খাবারও দেন তারা। তার মুক্তির প্রসঙ্গে জানতে গেলে ওসি এমদাদ ও এসআই হিমেল রাশেদের কাছে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন। পুলিশ তাদের কাছে তাদের আইডি কার্ডও চায়। পরদিন ৮ আগস্ট ফের জনির সঙ্গে দেখা করতে থানায় গেলে পুলিশ জানায় তিনি কোথায় আমাদের জানা নেই। জনিকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানান।
এ বিষয়ে শেখ আব্দুর রাশেদ বলেন, বিষয়টি তৎকালীন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনকে জানানো হয়। পরে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার স্ত্রী জেসমিন নাহার স্বামীর সন্ধান দাবি করেন। খোঁজ না পেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করে নিখোঁজের স্ত্রী। সাতক্ষীরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে ওসি ফিরোজ মোল্লা তা গ্রহণ করতে অসম্মতি জানান।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট সাতক্ষীরা থানার সাবেক ওসি এমদাদ শেখ ও ফিরোজ মোল্লা এবং এসআই হিমেলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সাথে মামলার বাদীপক্ষকে ফৌজদারি মামলা করার আদেশ দেন।
মামলাটি পরিচালনা করেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফরহাদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন।
আহসানুর রহমান রাজীব/আরএইচ/এমএস