ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জীবনটা কি খুপরিতেই কেটে যাবে মন্টু মোল্লার

জেলা প্রতিনিধি | পাবনা | প্রকাশিত: ০৯:০৫ এএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১

বেশভূষা দেখলে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হবে। অনেকে বলেন- ‘মন্টু পাগলা’, কেউ বা ‘বনমানুষ’ বলে উপহাস করেন। কিন্তু তার জ্ঞান-বুদ্ধি, স্ত্রী-সন্তান, পরিবার সবই আছে। নেই শুধু বাসস্থান আর দু’মুঠো অন্নের নিশ্চয়তা। দারিদ্রের কষাঘাত ও সামাজিক অবহেলায় সপরিবারে অস্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন তিনি।

পাবনা সদর উপজেলার পাবনা-সুজানগর সড়কের দুবলিয়ার কাছে খুপরিতে স্ত্রী-সন্তানসহ মানবেতর জীবনযাপন করছেন মন্টু মোল্লা। দেখতে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হলেও তিনি স্বাভাবিক জ্ঞান বুদ্ধির একজন মানুষ।

jagonews24

মন্টু মোল্লা বলেন, বাগেরহাটের মোল্লাহাট থেকে বহু বছর আগে পাবনায় এসেছিলেন তিনি। পরে পাবনা সদরের দুবলিয়া এলাকায় স্থায়ী হন। ঘরে তার তিনটি সন্তান রয়েছে। জন্ম থেকেই অভাব-অনটনে বেড়ে ওঠা মন্টুর সময় কেটেছে এবাড়ি-ওবাড়ি। বিয়ের পরও কোনো বাসস্থান জোটেনি তার। রাস্তার ধারে খুপরিতে ঠাঁই হয় তার। সামান্য বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যান তারা।

মন্টু মোল্লার স্ত্রী বলেন, স্বামী মন্টু সারাদিন এখানে-ওখানে ভিক্ষা করে বেড়ান। তার জ্ঞান-বুদ্ধি থাকলেও নোংরা বেশভূষার জন্য মানুষ তাকে ‘মন্টু পাগল’ বলে ডাকেন। কেউ তাদের সাহায্য করেন না। না খেয়ে মরে গেলেও কেউ দেখার নেই। অফিস-আদালত চেনেন না তারা। ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও খোঁজ রাখেন না।

jagonews24

স্থানীয় ফজিলাতুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক পরিচালক আব্দুল খালেক খাঁন বলেন, সভ্য সমাজের একটি পরিবার এভাবে দিনযাপন করে তা কল্পনাও করা যায় না। দরিদ্রতার কষাঘাতে, অবহেলা-অনাদরে মন্টু মোল্লা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এ পরিবারকে সহযোগিতায় সবার এগিয়ে আসা উচিত।

রইজ খাঁন নামের স্থানীয় এক নেতা বলেন, অসহায় এ ব্যক্তিটির একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া দরকার। তারা সপরিবারে খাদ্য সংকটেও ভুগছে।

jagonews24

পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস মুন্সিও স্বীকার করেন মন্টু মোল্লা কোনো সহযোগিতা পাননি। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাকে ভাতার কার্ড ও অন্যান্য সরকারি সহযোগিতা করা হবে।

jagonews24

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা জাগো নিউজেকে জানান, মন্টু মোল্লার এমন জীবনযাপন অবশ্যই দুঃখজনক। তার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা হলেই আগামীতে তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/আরএইচ/এসজে/এএসএম