ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চলছে বিদ্যালয় পরিষ্কার, এখন শুধু শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০১:৪১ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। নওগাঁয় বিদ্যালয়গুলোকে পাঠ উপযোগী করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নগর কুসুম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দপ্তরি আলমগীর কবিরসহ দুজন বিদ্যালয় ধোয়া-মোছার কাজ করছেন। এই বিদ্যালয়ে একটি অফিস কক্ষসহ আটটি কক্ষ রয়েছে। যেসব কক্ষ পরিষ্কার করা হয়েছে তা ফ্যানের বাতাসে শুকানো হচ্ছে। পাশেই নগর কুসুম্বী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। সেখানেও চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।

Naogaon

নগর কুসুম্বী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনাই করেনি। তারপরও কয়েকদিন দেখলাম অনলাইনে ক্লাস করেছে। কয়েকবার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েও তা সম্ভব হয়নি। এবার দেখা যাক কি হয়।’

একই বিদ্যালয়ের আরেক অভিভাবক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমার মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মূল্যায়নের জন্য স্কুল থেকে কিছু প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। আর এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে শিক্ষার ১২টা বাজবে। শুনছি স্কুল চালু হবে। তবে ছেলেমেয়েরা কোনো ধরনের সমস্যায় যেন না পড়ে সেজন্য কর্তৃপক্ষ যেন পদক্ষেপ নেয়।’

Naogaon

নগর কুসুম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি আলমগীর কবির বলেন, সকাল থেকে হুইল পাউডার দিয়ে বিদ্যালয় ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। বিদ্যালয় দ্রুত পরিষ্কার করতে সঙ্গে একজন শ্রমিকও নেওয়া হয়েছে।

নগর কুসুম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজাতুন নেসা জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬৭ জন। বিদ্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ, মেঝে, দেয়াল, দরজা, জানালা আশপাশ ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক, স্যানিটাইজার, স্যাভলন, সাবান, বালতি ও মগসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী কেনা হয়েছে। বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Naogaon

নগর কুসুম্বী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান লুৎফর রহমান জানান, এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫৩ জন। বিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে পুরোপরি পরিষ্কার করা হয়েছে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তিনজন শিক্ষককে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পড়াশোনা তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। এছাড়া অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টর (প্রশ্নোত্তরপত্র) মাধ্যমে মূল্যয়ন করা হয়েছে।

নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মো. ইউসুফ রেজা জানান, প্রতিটি বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ প্রায় শেষ। এছাড়া স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীও কেনা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আলোচনা করেছেন এবং সরকারের সমস্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন।

আব্বাস আলী/এফআরএম/এমএস