ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এক যুগের বেশি সময় শিকলবন্দি শহিদুল

আরিফ উর রহমান টগর | প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

১২ ফুটের শিকলে এক যুগের বেশি সময় ধরে বাঁধা মানসিক প্রতিবন্ধী শহিদুল ইসলাম (৩৫)। শহিদুল টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মহানন্দনপুর গ্রামের মৃত. আজিম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে শিকলবন্দি অবস্থায় রাখা হয় শহিদুলকে। লোহার চাকতি লাগানো শিকল দুই পায়ে পরানো আর শিকলে লাগানো হয়েছে দুটি বড় তালা। দিনে বাড়িতে গাছের সঙ্গে আর রাতে ঘরে চৌকির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় তাকে। মাঝে মাঝে নজরদারিতে রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়ে দেওয়া হলে স্থানীয় বাজারে তিনি ঘোরাঘুরি করেন। কেউ কাছে গেলে কোনো কথাই বলেন না।

শহিদুলের বৃদ্ধ মা কাজুলি বেগম জানান, তিন ছেলের মধ্যে শহিদুল সবার ছোট। মেজ ছেলে কয়েক বছর আগে মারা যায়। জন্মের কিছুদিন পর হঠাৎ প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে পড়ে শহিদুল। স্থানীয় পল্লীচিকিৎসক ও কবিরাজ দিয়ে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। এরপরও সুস্থ হয়নি। ক্রমেই মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। সুযোগ পেলেই এদিক-সেদিক চলে যায়। এ কারণে বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখা হয়েছে তাকে।

তিনি জানান, শহিদুলের বাবা ৫ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। অভাবের সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনের উৎস। স্বামীর মৃত্যুর পর মানুষের সহযোগিতায় কোনো রকমে সংসার চালিয়ে যাচ্ছি। বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। শহিদুলকে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছি। এরপরও মায়ের হাতে ছাড়া খাবার খায় না শহিদুল।

মহানন্দনপুর গ্রামের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বলেন, শহিদুলকে একটি ভাতা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ৭৫০ টাকা পান। সেই টাকা দিয়েই কোনোমতে তার খাবারের ব্যবস্থা করেন তার মা।

প্রতিবেশী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, শহিদুল ও তার মা একসঙ্গে থাকে। তারা অসহায়। যা ভাতা দেওয়া হয়, তাতে চলে না। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসাও হয়নি। চিকিৎসা করাতে পারলে শহিদুল সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী শহিদুলকে শিকলবন্দি রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এমআরএম/এএসএম