মিনি অটো রাইস মিলে নিমিষে আলাদা চাল-খুদ-কুঁড়া
সাধারণ মিলে ভাঙানো চাল থেকে খুদ ও অবশিষ্ট কুঁড়া বা তুষ আলাদা করা বেশ ঝক্কির কাজ। এতে ব্যয় হয় সময় ও শ্রম। বিশেষ করে গৃহিণীদের রান্নার আগে বেশ বেগ পেতে হয়। এই সমস্যা লাঘব করছে মিনি অটো রাইস মিল। মাত্র ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগেই এই মিলে চাল থেকে নিমিষে খুদ, তুষ ও কুঁড়া আলাদা হয়ে যায়। ভাঙানো ও মিল পরিচালনা খরচও কম হওয়ায় পাবনায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই মিল। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও কেউ কেউ বসাচ্ছেন এই যন্ত্র।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামে কয়েক মাস আগে মিনি অটো রাইস মিল স্থাপন করেছেন রমন বিশ্বাস। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এলাকার অনেকেই মিনি অটো রাইস মিলের সুবিধা জেনে গেছেন। গ্রামের গৃহিণীরাও জেনেছেন এর সুবিধা। যারা জেনেছেন তার অন্য জায়গায় ধান ভাঙাতে যান না।
‘এই মেশিনে ধান ভাঙালে তুষ-কুঁড়া বা খুদ আলাদা করার জন্য ঝাড়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ কয়েকটি ভিন্ন নির্গমন পথে ঝরঝরে চাল একদিক দিয়ে, খুদ একদিকে আর তুষ একদিকে বেরিয়ে আসে। ফলে এখান থেকে যে চাল পাওয়া যায় তা আর ঝাড়াই-বাছাই করতে হয় না। সরাসরি রান্না করা যায়।’

কর্মচারী শুকুর আলী জানান, তিনি সিরাজগঞ্জ থেকে এসে মিনি চালকলে চাকরি নিয়েছেন। যন্ত্রটি দিয়ে আতপ ধান ও সিদ্ধ ধান ভাঙানো যায়। যন্ত্রটি দিয়ে চাল, গম, ভুট্টা ও ডাল ভাঙিয়ে গুঁড়াও করা যায়। একই মেশিনে মেলে দুই সুবিধা।
কলেজ শিক্ষকতার পাশাপাশি মিনি রাইস মিল চালু করেছেন রমন বিশ্বাস। তিনি বলেন, একজন কর্মচারীই যথেষ্ট। অর্ধলাখ টাকা ব্যয়ে যে কেউ এরকম মিনি চালকল দিয়ে বাড়তি আয় করতে পারেন। বেকার ছেলেরা বাড়িতে বসে না থেকে এমন উদ্যোগ নিলে তারাও সফল হতে পারেন। খুব সামান্য জায়গা লাগে বলে দোকানঘরে একাধিক ব্যবসা করা যায়।

তিনি নিজের ব্যবসার উদাহরণ দিয়ে জানান, একটি যন্ত্র তিনি রাস্তার পাশে বসিয়ে রেখেছেন। দোকানে আরো কিছু মালপত্র আছে। সেগুলোও বিক্রি বাট্টা হয়। এটা সহজে বহনযোগ্য বলে যে কোনো জায়গায় স্থাপনের সুযোগ আছে। কর্মচারীর বেতন বাদ দিয়েও তার মাসে ভালো একটা মুনাফা থাকে।
আতাইকুলা ইউনিয়নের পদ্মবিলা গ্রামের গৃহিণী রহিমা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, এমন যন্ত্র আসায় বাড়তি কষ্ট করা লাগছে না। আর বাড়ির কাছেই মেশিন চলে আসায় ভ্যানগাড়িতে করে ধান বা অন্য সামগ্রী পাঠিয়ে দিলেই বলতে গেলে কাজ শেষ।

মিনি কারখানা মালিক রমন বিশ্বাস মিনি রাইস মিলের সুবিধা সম্বন্ধে বলেন, একবারেই প্রসেসিং শেষ হয়। চাল ভালো থাকে এবং ভাঙা চালের হার কম হয়, কম তাপমাত্রায় বেশি ধান ভাঙানো যায়। চালের গঠন ঠিক থাকে। এ যন্ত্রে বিদ্যুৎ খরচ যেমন কম, তেমনি সহজে যে কেউ অপারেট করতে পারে।
তিনি আরো জানান, প্রতি ঘণ্টায় সিদ্ধ বা আতপ ধান ১৮০-২২০ কেজি ভাঙানো যায়। আর গম, ভুট্টা, ডাল প্রতি ঘণ্টায় ১২০-১৫০ কেজি পর্যন্ত। এটি স্থানান্তর করাও সহজ। তাই দোকানে বা দোকানের বাইরে নিয়েও কাজ করা সম্ভব।

মিলের মূলত তিনটি অংশ। দুটি অংশের একটি ভারত ও একটি চীনের তৈরি। একটি অংশ দেশের ওয়ার্কশপ থেকে তৈরি করে নেওয়া যায়। সব মিলিয়ে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকার মতো। আর এসব যন্ত্রাংশ বেশি পাওয়া যায় যশোর ও ঝিনাইদহ জেলায়।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) পাবনার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মিনি রাইস মিল পাবনায় বেশ জনপ্রিয় উঠছে। এতে অনেক বেকার কাজ খুঁজে পাচ্ছেন। অনেক লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এটা খুবই আশার কথা। বিসিক পাবনা থেকেও কিছু ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি তৈরি হয়। আগ্রহীদের নানা রকম প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এএ/জেআইএম