ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দুই দফায় প্রসূতির যৌনাঙ্গ কেটে ফেললেন নার্স

জেলা প্রতিনিধি | টাঙ্গাইল | প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

টাঙ্গাইল শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকের পরিবর্তে নার্স দিয়ে সন্তান প্রসব করানোর সময় ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির যৌনাঙ্গ ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই নারীর অবস্থা সংকটাপন্ন। তার সন্তানের অবস্থাও ভালো নয়।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রসূতির স্বামী দেলদুয়ার উপজেলার চিনাখোলা গ্রামের মো. মহসিন মিয়া।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা উঠলে রাত সাড়ে ৯টায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করেন মহসিন মিয়া। ওই নারীর সন্তান প্রসবের দায়িত্বে ছিলেন ডা. আখতার জাহান। তার অধীনে ছিলেন নার্স হাফিজা ও সেলিনা। তবে সময় হওয়ার আগেই ওই দুই নার্স জোর করে ডেলিভারি করান। এতে এক ছেলেসন্তান জন্ম হয়। সন্তান প্রসবের সময় ওই নারীর জরায়ু, পায়খানা ও প্রস্রাবের রাস্তা পুরোটাই কেটে ফেলে সেলাই করে দেন ওই দুই নার্স।

পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ডা. আখতার জাহানকে না দেখিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার শিল্পী ১৩০০ টাকা নিয়ে তাদের ছুটি দেন। পাঁচদিন বাড়িতে থাকার পর ২৫ সেপ্টেম্বর ওই নারীর প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে পায়খানা বের হতে থাকে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওইদিনই তাকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর ডা. আখতার জাহানকে দেখাতে চাইলে নার্স হাফিজা ও সেলিনা বাধা দেন। পরে ভিজিট দিয়ে আখতার জাহানের ব্যক্তিগত চেম্বারে দেখা করেন ওই নারী। আখতার জাহানের পরামর্শে ওই নারীকে চারদিন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি রাখা হয়। এ সময়ের মধ্যে ডা. আখতার জাহানের অনুমতি ছাড়া ওই দুই নার্স ওই নারীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যৌনাঙ্গ কেটে ফেলেন। এতে ওই নারীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় তারা আবার সেলাই করে দেন।

ওই নারীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে দিন দিন তার অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে। যা খাবার খাচ্ছেন তা যৌনাঙ্গ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। শিশুটির অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে ওই নারীর স্বামী মহসিন মিয়া বলেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক সরকারি বেতন নিলেও তেমন দায়িত্ব পালন করেন না। তিনি ব্যক্তিগত চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তিনি নার্স দিয়ে তার কাজ করান। আমার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

জানতে চাইলে ডা. আখতার জাহান বলেন, নরমাল ডেলিভারি সাধারণত নার্সরাই করেন। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া আছে। আমি শুধু তত্ত্বাবধান করি। বর্তমানে ওই প্রসূতির যে অবস্থা, তাতে তাকে তিন মাসের আগে কোনো চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। তার অবস্থা যতই অবনতি হোক না কেন তিন মাসের আগে তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নার্স হাফিজা ও সেলিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান জাগো নিউজকে বলেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র তদারকির দায়িত্ব জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের। এ ব্যাপারে তিনি সেখানে বক্তব্য নেওয়ার পরামর্শ দেন।

টাঙ্গাইল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক লুৎফুল কিবরিয়া জাগো নিউজকে বলেন, অভিযোগটি আজই পেয়েছি। তদন্তের জন্য এক সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গণি বলেন, ঘটনাটির তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এসআর/জিকেএস