ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাই
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বড় ভাই। তবে সহযোগিতার পরিবর্তে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ছোট ভাই। বড় ভাই নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করলেও ছোট ভাইয়ের প্রতীক লাঙল।
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দিকদাইড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দুই ভাই মো. গোলাপ হোসেন ভূইয়া ও তার ভাই মো. আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়ার ভোটের লড়াই এখন এলাকার প্রধান আলোচনার বিষয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তাড়াইল উপজেলার দিকদাইড় ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. গোলাপ হোসেন ভূইয়া এবারো নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তবে ওই ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙল প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারই ছোট ভাই মো. আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া। ভোটাররা বলছেন, দুজনই এলাকায় প্রভাবশালী। তাই দুই ভাইয়ের লড়াই নিয়ে বেকায়দায় ভোটাররা।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে জাতীয় রাজনীতির মারপ্যাচে গত দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান বর্তমান এমপি ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। এতে চাঙ্গা হয়ে ওঠে জাতীয় পার্টি। অপরদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাপ হোসেন ভূইয়া বলেন, আমি বিগত সময়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দিকদাইড় ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। সব সময় সুখে দুঃখে মানুষের পাশে থেকেছি। আমি শতভাগ আশাবাদী আমার ইউনিয়নের ভোটাররা এবারো নৌকায় ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করবেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। সে ভাই হোক আর যেই হোক।
জাপা মনোনীত প্রার্থী মো. আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, তাড়াইলে জাতীয় পার্টি ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। আমাদের এমপি মুজিবুল হক চুন্নু এ এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন। এই ইউনিয়নে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে জাতীয় পার্টির বিকল্প নেই। ভোটাররা আমার সঙ্গে আছেন। আমি অবশ্যই নির্বাচিত হবো।
কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, দিকদাইড় ইউনিয়নে দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। তাদের কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করেননি। নির্বাচনী আইন মেনে যে কেউই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
আগামী ১১ নভেম্বর তাড়াইল উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ সদস্য পদে ২২৮ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৮৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নূর মোহাম্মদ/এসআর/জিকেএস