ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কয়লার দামে বন্ধ ইট উৎপাদন

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ০৪ নভেম্বর ২০২১

ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে এখনও ইট উৎপাদনে যেতে পারেননি ভাটার মালিকরা। জ্বালানি (কয়লা) সংকট ও দিগুণেরও বেশি মূল্যবৃদ্ধির কারণে জেলায় দেখা দিয়েছে ইটের সংকট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর প্রতি টন কয়লার দাম ছিল সাড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। কিন্তু চলতি মৌসুমে খরচ বেড়ে টনপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯ থেকে ২২ হাজার টাকা। আর এ কারণে ভাটার মালিকেরা ইট কাটা বন্ধ রেখেছেন।

ফরিদপুর সদরসহ ৯টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১২০টি ইটভাটা সচল রয়েছে। তার মধ্যে অটো ইটভাটা ৭টি। বাকি ১১৩টি ইটভাটা কয়লা নির্ভর।

ফরিদপুর সদর ও আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটা ঘুরে জানা যায়, গত বছরের ইট এরইমধ্যে বিক্রি প্রায় শেষ। কিন্তু নতুন করে উৎপাদনে না যাওয়ায় জেলাজুড়ে ইটের বেশ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সরকারি উন্নয়ন কাজে ঠিকাদাররা ইট কিনে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আর নতুন ইট উৎপাদনের পর যে দামে বিক্রি হবে, তা বর্তমান বাজার দরের দ্বিগুণ।

ভাটা সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত ইট উৎপাদনে যাওয়ার সময় সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়েই মাটি কেনা, মাটি থেকে কাঁচা ইট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। কাঁচা ইট রোদে শুকিয়ে অক্টোবর মাসেই প্রথম কিস্তি ইট পোড়ানো শুরু করেন। কিন্তু এবার নভেম্বর মাস শুরুর পরও ইট উৎপাদন শুরু করা যায়নি।

ভাটা মালিকদের ভাষ্য, গত বছর এক টন কয়লার দাম ছিল সাড়ে ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ কয়েক মাসের ব্যবধানে এখন ১৯ থেকে ২২ হাজার টাকা এক টন কয়লার দাম। তাও প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া যাবে কিনা ঠিক নেই।

কয়লার দামে বন্ধ ইট উৎপাদন

আলফাডাঙ্গা উপজেলার ইটভাটা মালিক আবুল হোসেন জানান, একটি মৌসুমে ৮ রাউন্ডে ৭ থেকে ৮ লাখ করে মোট ৫০ থেকে ৬০ লাখ ইট তৈরি হয়। একেক রাউন্ডে ইট পোড়াতে সময় লাগে ২০ থেকে ২৫ দিন। এবার কয়লার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আবার চলতি মৌসুমের প্রায় দেড় মাস চলে গেছে। দাম না কমা পর্যন্ত কেউ ভাটা চালু করবে বলে মনে হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এবার ইট উৎপাদনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

কানাইপুরের হাক্কানী ব্রিকসের ভাটা মালিক ও বোয়ালমারীর শেখপুর এলাকার শফি হাজি ভাটার মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি রাউন্ডে ৭ থেকে ৮ লাখ ইট পোড়ানো হয়। এতে প্রায় ১৩০ টন কয়লা লাগে। এতে ৮ রাউন্ড পোড়ালে ১ হাজার টনের বেশি কয়লা প্রয়োজন হয়।

তিনি আরও বলেন, ১ হাজার টন কয়লার দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। সেই কয়লা এবার কিনতে হবে সোয়া ২ কোটি টাকায়। আবার টাকা হলেই কয়লা মিলছে না। সময়মতো সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে না।

মধুখালী উপজেলার এমআরএম ব্রিক্সের ভাটার মালিক খন্দকার মোরশেদ রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এত দামে কয়লা কিনে একটি ইট উৎপাদনে ১০ থেকে ১১ টাকা খরচ হবে। সে অনুযায়ী নতুন ১ হাজার ইটের দাম হবে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। এত দাম দিয়ে মানুষ ইট কিনবে কিনা সেটাই বড় চিন্তার বিষয়।

কয়লার দামে বন্ধ ইট উৎপাদন

শহরতলীর রউফ ব্রিকসের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. মিজানুর রহমান জানান, ইটভাটার ব্যবসা করতে হলে বিভিন্ন জেলার ইট প্রস্তুতকারী শ্রমিকদের সারা বছর অথবা কমপক্ষে ছয় মাস আগে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা দাদন হিসেবে অগ্রীম দিতে হয়। তা না হলে সময় মতো পাওয়া যায় না। অন্য ভাটায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে পড়ে। কারণ এসব শ্রমিকদের সংখ্যা কম, চাহিদা বেশি। এবার সেসব দাদন নেওয়া চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকেরা কাজে আসতে পারছেন না। বেকার অবস্থায় কাটছে তাদের সময়। প্রতিটি ভাটায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন শ্রমিক অপেক্ষারত।

ফরিদপুরের ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি খলিফা কামাল উদ্দিন বলেন, ২২ হাজার টাকায় কয়লা ক্রয় করা ব্যাপক ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন ভাটার মালিকেরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এখনই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তা না হলে বাজারে আসা নতুন ইটের উৎপাদন খরচ ব্যাপক বেড়ে যাবে। যা মানুষের একেবারে নাগালের বাইরে চলে যাবে।

কয়লা ব্যবসায়ী মুজিবর রহমান বলেন, মোংলা ও নওয়াপাড়ার কয়লা আমদানিকারকদের কাছ থেকে কয়লা ক্রয় করে ফরিদপুরে ভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করি। এবার আমদানিকারকদের ভাষ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি শিপমেন্ট খরচ বেড়ে গেছে। যার দরুন কয়লার আমদানি খরচ বেড়েছে। বাধ্য হয়ে বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি দামে কয়লা বিক্রি করতে হচ্ছে।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম