ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এবার পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৩ কোটি ৭ লাখ

জেলা প্রতিনিধি | কিশোরগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৭:১৩ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০২১

এবার কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে টাকার অঙ্ক আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মসজিদের মোট আটটি দানবাক্সে ৩ কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা পড়ে।

শনিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১২ বস্তায় থাকা টাকা গণনা করে এ হিসাব পাওয়া যায়। এর আগে সর্বশেষ ২৯ জুন দানবাক্স থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

jagonews24

শনিবার সন্ধ্যায় টাকা গণনা কমিটির আহ্বায়ক কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা খানম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মসজিদের লোহার দানবাক্স খোলা হয় তিন থেকে চার মাস পর পর। তখনি মিলে কাড়ি কাড়ি টাকা, বিদেশি মুদ্রা আর স্বর্ণালঙ্কার। দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ এ মসজিদের মানত করতে আসেন। দান করেন নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দান করলে মনের যে কোনো ইচ্ছা পূরণ হয় এমন বিশ্বাসে দেশ-বিদেশের মানুষ এখানে মানত করতে আসেন। প্রতিবার দানের নগদ টাকার পরিমাণ ছাড়িয়ে যায়।

শনিবার সকালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়। ১২টি বস্তায় টাকা ভর্তি করে মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। মাদরাসার শতাধিক ছাত্র, ৫০ জন কর্মচারী ও রুপালি ব্যাংকের কর্মকর্তারা দিনভর টাকার গণনার কাজে অংশ নেন। এবার চার মাস ২১ দিন পর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় তিন কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা।

শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত মসজিদটি ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এর ইমারত আর নির্মাণশৈলী মন কাড়ে যে কারও। দৃষ্টিনন্দন এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র মুসলমানদের কাছেই নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছেও পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত।

পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, টাকা গণনা কমিটির তত্ত্বাবধানে সকালে সিন্দুক খোলার পর সবার উপস্থিতিতে টাকা গণনা করা হয়। নগদ টাকা ছাড়াও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রতিদিন লোকজন হাঁস-মুরগি, ছাগলসহ অন্যান্য জিনিস দান করে। এগুলো নিলামে বিক্রি করে ব্যাংকে টাকা জমা রাখা হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, মসজিদ কমপ্লেক্স ও মাদরাসার খরচ চালানোর পর অতিরিক্ত টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এর আয় থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসায় অনুদান দেওয়া ছাড়াও অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দানের টাকা দিয়ে এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

নূর মোহাম্মদ/এসজে/এএসএম